বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রতারণা মামলায় জগন্নাথপুরের দুই ভাই কারাগারে

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বহুল আলোচিত সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত দুই ভাই ইয়াকুব মিয়া ও ইসমাইল মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) মামলার অধিকতর তদন্ত শেষে সিআইডি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।

আসামি ইয়াকুব ও ইসমাইল জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-গোয়ালগাঁও গ্রামের মৃত আরজু মিয়ার ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ায় এর আগে সুনামগঞ্জের দায়রা জজ আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। ফৌজদারি রিভিশন মামলা নং-৮৮/২০২০-এর রায়ে ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর অতিরিক্ত দায়রা জজ ওয়াহিদুজ্জামান শিকদার জগন্নাথপুর থানার জি.আর. মামলা নং-৭৭/২০১৯-এ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের ৪ নভেম্বর ২০২০ সালের আদেশ বাতিল করে মামলাটি সিআইডির কাছে অধিকতর তদন্তের জন্য পাঠান।

আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, মামলার অন্যতম আসামি হাফিজ কামরুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে এনামুল হাসানের দুই ভাই ইয়াকুব ও ইসমাইলের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে তাদের আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেননি, যা তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি বলে আদালত মন্তব্য করেন।

এছাড়া আদালত বলেন, মামলার প্রকৃতি অনুযায়ী দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারার পাশাপাশি ১০৯ ধারা সংযুক্ত করার বিষয়টিও তদন্তে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার কোনো অংশ উদ্ধার না হওয়া এবং ওই অর্থ দিয়ে কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ থাকা জমির দলিল আলামত হিসেবে জব্দ না করাকেও তদন্তের দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বাদী মাওলানা ইমরান আহমদ অভিযোগ করেন, অলৌকিকভাবে বিপুল অর্থ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তদন্ত শেষে পিবিআই অভিযোগপত্র দাখিল করলে তিনি নারাজি আবেদন করেন। পরে সেই আবেদন খারিজ হলে তিনি দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলাটির অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে সিআইডিকে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন। সেই তদন্তের প্রতিবেদন দাখিলের পর বৃহস্পতিবার দুই আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এই সম্পর্কিত আরো