সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের হাকুর বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীর গরুর গাড়ি আটকে চাঁদা দাবি, চালককে মারধর এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সদস্য কাওছার আহমদ রাহাতের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রুহেল আহমদের এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সপক্ষে ও বিপক্ষে উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে এখন উত্তাল স্থানীয় নেট দুনিয়া।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও ফতেপুর বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী রুহেল আহমদ জানান, ২০০৪ সাল থেকে তিনি ওই এলাকায় ব্যবসা করছেন। গত বুধবার রাধানগর বাজার থেকে ৬টি গরু কিনে তিনি একটি পিকআপ যোগে গন্তব্যে পাঠাচ্ছিলেন। গাড়িটি ডৌবাড়ী ইউনিয়নের হাকুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে কাওসার আহমদ রাহাত ও তার সহযোগীরা গাড়িটির গতি রোধ করে চালকের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করেন।
রুহেল আহমদ অভিযোগ করে বলেন, ‘চালক আমাকে ফোন দিলে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই রাহাত ও তার দলবল চালককে মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয় মুরুব্বিদের সাথে কথা বলে জানতে পারি, হাকুর বাজারে 'মা এন্টারপ্রাইজ' নামের একটি অফিসকে কেন্দ্র করে এই চক্রটি প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি করে আসছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত রাহাত নিজেকে জামায়াতের প্রভাবশালী নেতা পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তিনি প্রশাসনের কাছে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর গোয়াইনঘাট উপজেলা এনসিপি’র (জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন) সদস্য সচিব মো. তানজির আহমেদ এক পোস্টে অভিযুক্তের যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেন— ‘দেশি না বিদেশি গরু—তা দেখার আপনি কে? আপনি এই টেন্ডার কোথা থেকে এনেছেন? গাড়ি বেপরোয়া চালালে ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের কাজ। গরু বৈধ না অবৈধ যাচাই করার ক্ষমতা আপনার নেই। আপনি নিজেই বলছেন বেপরোয়া গতিতে চালানোর জন্য পথচারীরা গাড়ি আটক করেছে, তাহলে আপনি ব্যবস্থা না নিয়ে গরুর কাগজপত্র কেন খুঁজলেন? এতেই প্রমাণ হয় চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা না করাই ভালো।’
এদিকে, ৬নং ফতেপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাজিম উদ্দিন তার ফেসবুক পোস্টে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন— ‘আওয়ামী আমলে সে স্বৈরাচারের দোসরদের খুব কাছের মানুষ ছিল, নিজেকে সাংবাদিক দাবি করত। ৫ আগস্টের পর সে এখন নব্য জামাত নেতা সেজেছে। আজ হাকুর বাজারে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সে ধরা খেয়েছে। সে আমাদের ফতেপুরের গাড়ি আটক করে চালককে মেরে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, সাংবাদিক নামধারী এই চাঁদাবাজকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাওসার আহমদ রাহাত। এক বিবৃতিতে তিনি বিষয়টিকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘বিকেলে হাকুর বাজারে একটি গরুবাহী গাড়ি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে চলছিল। স্থানীয় পথচারীরা সেটি থামান এবং চালকের কাছে গরুগুলোর বিষয়ে জানতে চান। পরে মালিকের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে উপস্থিত ৩০-৫০ জন সাধারণ মানুষের সামনেই গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে কোনো অর্থ লেনদেন বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। আমি সেই সময় সিলেটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম। একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার ও ‘মা এন্টারপ্রাইজ’-এর সুনাম নষ্ট করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’ তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনের প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।
গোয়াইনঘাটের সচেতন নাগরিকরা জানিয়েছেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বা রাজনৈতিক পরিচয় বদলে যারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এলাকায় বর্তমানে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
গোয়াইনঘাট থানার সূত্রে জানা গেছে, এই বিষয়ে কোনও অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেয়া হবে।