হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের রুদ্রগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্থানীয় জামে মসজিদে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি প্রায় ১০০ বছরেও সংস্কারের মুখ দেখেনি। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত হলেও পাহাড়ি টিলার ওপর নির্মিত এ সড়কটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে বর্ষাকালে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফলে ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ৯১ বছরের ইতিহাসেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীকে পায়ে হেঁটেই চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে পাহাড় কেটে নির্মিত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে উঁচু-নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং মসজিদে যাতায়াতকারী মুসল্লিরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুবার আবেদন করা হলেও রহস্যজনক কারণে সড়কটির উন্নয়ন হয়নি। এক পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ইটের সলিংয়ের উদ্যোগ নিলেও পাশের জমির মালিক রব্বান ঘোরীর আপত্তিতে সেই কাজও বন্ধ হয়ে যায়।
রুদ্রগ্রামের সাবেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হামিদ ঘোরী বলেন, "এই সড়কের কারণে বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অন্তত ছোট যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে সড়কটি সংস্কার করা জরুরি।"
গ্রামবাসী আব্দুর রব ঘোরী জানান, বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। এক শিক্ষার্থী পাহাড়ি ঢালে পিছলে পড়ে হাত ভেঙে ফেলেছে। "এখানে গাড়ি তো দূরের কথা, রিকশাও আসতে পারে না," বলেন তিনি।
রুদ্রগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম দাশ বলেন, "আমি ২১ বছর ধরে এই বিদ্যালয়ে কর্মরত। প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই কিলোমিটার হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সড়কে পড়ে হাত ভেঙেছিল। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহুবার আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো সড়কটির সংস্কার হয়নি।"
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রব্বান ঘোরী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দেবপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আজাদ মিয়া বলেন, "ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সীমিত পরিসরে কিছু উন্নয়ন করা হয়েছিল। পরে সড়কটি এলজিইডির তালিকাভুক্ত হওয়ায় আর কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।"
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহরিয়াজ সুমন বলেন, "আগে সামান্য অংশে ইটের সলিং করা হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় আপত্তির কারণে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বরাদ্দ না থাকায় উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমদ বলেন, "সড়কটি আমাদের তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রয়োজনীয় আবেদন ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে উন্নয়নের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"