রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

জৈন্তাপুরে ভাতিজার দায়ের কোপে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন চাচা, গ্রেপ্তার ১

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের কাপনাকান্দি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন ভাতিজার হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন ৭০ বছর বয়সী মনোফর আলী। বর্তমানে তিনি সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান অভিযুক্তসহ অন্য আসামিরা এখনও পলাতক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুন মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মনোফর আলীর মালিকানাধীন রাস্তার ওপর বেড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে তার আপন ভাতিজা রাহিম আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে মনোফর আলীর বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে হামলা চালায়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, একপর্যায়ে রাহিম আলী ধারালো দা দিয়ে মনোফর আলীর মাথায় কোপ দেন। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সাফিয়া বেগম মুগুর দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে রাজিয়া বেগম ও নাইমা বেগম লাঠি ও বাঁশ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারের দাবি, মনোফর আলী ও তার ভাতিজা রাহিম আলী একই বাড়িতে পৃথকভাবে বসবাস করলেও জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার আগেও বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের অভিযোগ।

হামলার পর সবচেয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মনোফর আলীর পরিবার। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার তিন ছেলে জীবিকার তাগিদে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। বাড়িতে রয়েছেন কেবল নারী সদস্যরা। পরিবারের একমাত্র অভিভাবক হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এ ঘটনায় আহতের পুত্রবধূ মোছা. শিপা বেগম বাদী হয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় রাহিম আলী, সাফিয়া বেগম, রাজিয়া বেগম, নাইমা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২ থেকে ৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৩০৭, ৩২৩, ৩২৬ ও ৫০৬ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ রাজিয়া বেগম নামে এক নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে হামলার মূল অভিযুক্তসহ অন্য আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার (২৬ জুন) দক্ষিণ কাপনাকান্দি মহল্লাবাসী ও এলাকার প্রবীণ মুরব্বিরা মনোফর আলীর বাড়িতে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়ে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

আহত মনোফর আলীর স্বজন আব্দুল আহাদ ও রানা বলেন, ‘আমাদের চাচা এখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। কোনো প্রভাবশালী মহল যেন কাউকে রক্ষা করতে না পারে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সবার কাছে চাচার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছি।’

মামলার বাদী ও আহতের পুত্রবধূ মোছা. শিপা বেগম বলেন, ‘আমার শ্বশুর বর্তমানে আইসিইউতে ভর্তি। আমাদের পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’

জৈন্তাপুর মডেল থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবর রহমান মোল্লা বলেন, ‘ঘটনার পর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই সম্পর্কিত আরো