মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

ওসমানীতে হাম রোগীদের জন্য নতুন ইউনিট ও আইসিইউ চালু

সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। জায়গা সংকটের কারণে এক শয্যায় রাখা হচ্ছে একাধিক শিশু। চিকিৎসা প্রদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। শুধু শয্যা সংকটই নয়, নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটেরও রয়েছে অপ্রতুলতা। গুরুতর অবস্থায় থাকা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় নিবিড় পরিচর্যা সেবা দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এমতাবস্থায় পরিস্থিতি বিবেচনায় শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের পাশাপাশি এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্তদের জন্য শিশু ওয়ার্ডে ৩২ সিটের একটি ইউনিট চালু করা হয়েছে। নতুন করে বাড়ানো হয়েছে পাঁচ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রও। সবমিলিয়ে সিলেটে মোট নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সংখ্যা এখন ২২।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর মুনীর রাশেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ওসমানী হাসপাতালে স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। এজন্য গতকাল সোমবার নতুন করে ওসমানী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চালু করা হয়েছে একটি বিশেষ ‘হাম আইসোলেশন ইউনিট'। পাশাপাশি ৫ শয্যার আইসিইউ বাড়ানো হয়েছে।

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে ২৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। ২৩ জন সন্দেহভাজন।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটিকে বিশেষায়িত করে শুরু থেকেই হাম রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তাই শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে।

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য জানায়, বর্তমানে হাম ও হামের উপসর্গে বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি রয়েছে ২৮০ জন। এর মধ্যে কেবল শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালেই ভর্তি ১১৮ জন। এছাড়া, ১০ জন ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে, ৪ জন উইমেন্স মেডিকেল হাসপাতালে, ২ জন আল হারামাইন হাসপাতালে, ৭ জন রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ২ জন মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে, ২ জন নর্থ ইস্ট হাসপাতালে, ২ জন পার্ক ভিউ মেডিকেল হাসপাতালে, ১জন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ২ জন বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৩ জন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৪ জন বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৭ জন দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ২ জন শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৫৪ জন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে, ১০ জন ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ৩ জন জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ১৫ জন হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ও ২০ জন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য থেকে আরও জানা যায়, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাব কনফার্ম কেস ১৪২ জন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৭১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে সিলেট ৪২, মৌলভীবাজার ১৬ ও হবিগঞ্জে ১৩ জন (২ জন হাম রুবেলা)। শেষ ২৪ ঘন্টায় সন্দেহজনক কেস নতুন ভর্তি ১২২ জন। এর মধ্যে ৫৪ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। বাকিরা অন্য হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো