সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নে অস্থায়ী অনুমতির আড়ালে গড়ে ওঠা একটি পশুর হাটকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাত্র সাত দিনের জন্য অনুমোদন দেওয়া হলেও এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও বহাল রয়েছে হাটটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও তদারকির অভাবে এটি এখন স্থায়ী অবৈধ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছর কোরবানির পশু কেনাবেচার সুবিধার্থে সাময়িক ভিত্তিতে হাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও হাটটি উচ্ছেদে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে এর পরিধি ও কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অননুমোদিত এই পশুর হাটের কারণে চিকনাগুল এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রধান সড়ক ও সংযোগ পথজুড়ে পশু ও যানবাহন রাখার কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিয়মিত যাত্রীরা।
এদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, যত্রতত্র অস্থায়ী দোকানপাট ও খুঁটি স্থাপন করে সড়ক সংকীর্ণ করে ফেলা হয়েছে। ফলে পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
বিগত এক বছর ধরে প্রকাশ্যে এমন অনিয়ম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন—এটি কি শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি কোনো প্রভাবশালী মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় অবৈধ কার্যক্রমটি টিকে আছে?
এ বিষয়ে ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্থানীয়রা অবিলম্বে অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদ করে জনদুর্ভোগ নিরসনে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, অস্থায়ী অনুমতির আড়ালে দীর্ঘমেয়াদি দখলদারিত্ব স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা ও আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।