দীর্ঘ প্রায় দুই বছর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর আগামী জুনের মধ্যে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ জুন থেকে ধাপে ধাপে সারা দেশ থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
মঙ্গলবার নবগঠিত কোর কমিটির প্রথম সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন ও সেনাবাহিনীর প্রত্যাবর্তনের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন থেকে দেশের দূরবর্তী জেলাগুলো থেকে সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার শুরু হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলাগুলো থেকে তাঁদের সরিয়ে নেওয়া হবে। পুরো জুন মাসের মধ্যেই দেশের সব জেলা থেকে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১৭ হাজার সেনাসদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার সারা দেশে কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছিল। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী মাঠে থেকে যায়। পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকার তাঁদের বিচারিক ক্ষমতাও প্রদান করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এখন তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন সময়ে জানানো হয়েছিল, দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের ফলে সদস্যরা ক্লান্ত এবং তাঁদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও বিশ্রামের প্রয়োজন। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও এর আগে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
কোর কমিটির সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের বিষয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেসব সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ফৌজদারি অপরাধ নেই, তাঁদের জামিনের ক্ষেত্রে সরকার কোনো বাধা দেবে না। এ ছাড়া কোনো সাংবাদিক দেশের বাইরে যেতে চাইলে তাঁদের অযথা হয়রানি না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইস্যু করা সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চাঁদাবাজিতে লিপ্ত ব্যক্তি যে কোনো রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হলেও বর্তমানের 'নেভি ব্লু' শার্ট ও 'খাকি' প্যান্টের সেটআপই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।