বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও তথ্যের স্বচ্ছতা বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ওপেন সাপ্লাই হাব (OS Hub) একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তার উৎপাদন খাতের তথ্য একটি ওপেন-সোর্স বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত করছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গতকাল রবিবার (১০ মে) এক অনলাইন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ-এর পক্ষে সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান এবং ওপেন সাপ্লাই হাবের পক্ষে সংস্থাটির সিনিয়র ডিরেক্টর অব প্রোগ্রামস হান্নাহ লেনেট নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ-এর পরিচালক শাহ রায়েদ চৌধুরী, বিজিএমইএ ট্রেড ফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান এম. সাজেদুল করিমসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের মূল লক্ষ্য হলো একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেস প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি পোশাক কারখানার অবস্থান, উৎপাদিত পণ্যের তালিকা এবং বিশেষ সক্ষমতা আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি প্রদর্শন করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগ বৈশ্বিক সোর্সিং ও ব্যবসায়িক সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সমঝোতা স্মারকের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ—
সদস্য কারখানার ম্যাপিং: বিজিএমইএ-এর সদস্যভুক্ত কারখানার তথ্য ও অবস্থান ওপেন সাপ্লাই হাবের গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন ম্যাপিং প্ল্যাটফর্মে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ইউনিক আইডি ও স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন: প্রতিটি কারখানাকে ওপেন সাপ্লাই হাব অ্যালগরিদমের মাধ্যমে একটি ‘ইউনিভার্সাল OS আইডি’ প্রদান করা হবে, যা বৈশ্বিক ব্র্যান্ড ও গবেষকদের জন্য তথ্য শনাক্তকরণ সহজ করবে।
সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ: কারখানার মালিক ও ব্যবস্থাপকদের জন্য অনলাইন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।
নিরীক্ষা পুনরাবৃত্তি হ্রাস: বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে বারবার একই তথ্য প্রদানের ঝামেলা কমানো হবে।
ওপেন সাপ্লাই হাব একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই চেইন ম্যাপিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনার মাধ্যমে তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের ট্রেসেবিলিটি ও তথ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে ওপেন সাপ্লাই হাবের সিনিয়র ডাইরেক্টর অব প্রোগ্রামস হান্নাহ লেনেট বলেন, বিজিএমইএ-এর সাথে এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা প্রতিটি কারখানাকে একটি ইউনিক ডিজিটাল প্রোফাইল প্রদান করছি, যা কেবল তথ্যের সঠিকতাই নিশ্চিত করবে না, বরং কারখানাগুলোর সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের চিত্র বিশ্বদরবারে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং রিটেইলারদের জন্য সঠিক সোর্সিং সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও আধুনিক ও দায়িত্বশীল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
বিজিএমইএ সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান বলেন, স্বচ্ছ ও ট্রেসেবল সাপ্লই চেইন তৈরিতে ওপেন সাপ্লাই হাবের সাথে বিজিএমইএ-এর এই অংশীদারিত্ব একটি মাইলফলক। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাসটেইনেবিলিটি বিষয়ক কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত শর্তাবলীর প্রেক্ষাপটে নির্ভরযোগ্য ডেটা এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং অপরিহার্য ব্যবসায়িক প্রয়োজন। এই সমঝোতা স্মারকটি বিশ্ববাজারে আমাদের সদস্য কারখানাগুলোর দৃশ্যমানতা বাড়াবে এবং বাংলাদেশকে একটি টেকসই সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।
বিজিএমইএ পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী বলেন, ‘সাপ্লাই চেইনের স্বচ্ছতাই টেকসই বাণিজ্যের মূল ভিত্তি। ওপেন সাপ্লাই হাবের সাথে এই উদ্যোগ আমাদের উৎপাদন খাতের সঠিক তথ্য বিশ্বজুড়ে সহজে পৌঁছে দেবে। সিএসথ্রিডি এর মতো আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো যে ধরণের স্বচ্ছতা ও তথ্যের নিশ্চয়তা দাবি করে, বাংলাদেশ তা পূরণে পুরোপুরি প্রস্তুত।
উভয় পক্ষ এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।