শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

জামালগঞ্জে স্বস্তির বৃষ্টিতে খুশি কৃষক

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় রবিবার রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘণ্টাব্যাপী হালকা বৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এই বৃষ্টিতে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের ঝিলিক দেখা গেছে।

কৃষকরা জানান, এ উপজেলা মূলত বোরো ফসলের উপর নির্ভরশীল। বর্তমানে বোরো ধানের সবুজ চারায় ধান বের হওয়ার উপযুক্ত সময় চলছে। কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় খরার কারণে অনেক সবুজ চারা লালচে হয়ে যাচ্ছিল। প্রায় এক মাস ধরে কৃষকরা অধীর আগ্রহে বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিলেন।

এর আগে উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের আঙ্গুলভাঙা মাঠে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও কৃষকদের উদ্যোগে বৃষ্টির জন্য বিশেষ দোয়া ও ইস্তেগফার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত মুসল্লিরা মহান আল্লাহর কাছে বৃষ্টির জন্য কান্নাকাটি করে প্রার্থনা করেন। অবশেষে আল্লাহ তায়ালা তাদের দোয়া কবুল করেছেন—দেখা মিলেছে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। এতে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

উপজেলার লালপুর গ্রামের কৃষক রমজান আলী বলেন, এবার তিনি ছয় বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় খরার কারণে চারাগুলো লালচে হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এতে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তবে বৃষ্টি হওয়ায় তিনি এখন খুশি এবং আশা করছেন চারা থেকে ধান বের হবে।

এদিকে বৃষ্টিতে কৃষকেরা খুশি হলেও ফসল রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরতদের মধ্যে কিছুটা দুশ্চিন্তা দেখা দিলেও সামগ্রিকভাবে তারা সন্তুষ্ট।
উপজেলা হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নির্বাহী সদস্য আব্দুর রব বলেন, বৃষ্টিতে হাওরের বাঁধের মাটি ভালোভাবে কম্পেকশন হবে। এতে মাটি শক্ত হবে এবং প্রকল্পের দূর্বাঘাস গজিয়ে উঠবে।

উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাঠ কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জনি বলেন, বৃষ্টিটি বেড়িবাঁধ ও কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। বৃষ্টির পর যেসব বেড়িবাঁধে ত্রুটি দেখা দেবে, সেগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে। হাওর এলাকা পরিদর্শন করে তিনি জানান, বড় ধরনের ফাটল বা ধসে পড়ার মতো কোনো ঘটনা চোখে পড়েনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, বোরো ধানের জন্য এ মুহূর্তে বৃষ্টি অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। এই বৃষ্টির ফলে চারাগুলো থেকে ধান বের হতে সহায়ক হবে।

এদিকে উপজেলা ফসল রক্ষা বাঁধ তদারকি কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর জানান, উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে এবং সার্বিক অগ্রগতি সন্তোষজনক। এই বৃষ্টিতে বোরো ধান ও বেড়িবাঁধের জন্য ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বৃষ্টির কারণে বাঁধের মাটি আরও শক্তভাবে বসবে এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এই সম্পর্কিত আরো