দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় তীব্র খরা ও তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল। এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি কামনায় জামালগঞ্জে বিশেষ নামাজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের আঙ্গুলভাঙ্গা হাওরের মাঠে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে সালাতুল ইসতিসকা (বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ) আদায় করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা দাঁড়িয়ে হাত উল্টো করে মোনাজাত করেন এবং অশ্রুসিক্ত চোখে আল্লাহর কাছে রহমতের বৃষ্টি কামনা করেন। এ সময় তীব্র তাপদাহ ও দীর্ঘ খরা থেকে মুক্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
নামাজ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন আটগাঁও শাহী ঈদগাহের ইমাম ও খতিব মাওলানা খসরুজ্জামান। তিনি বলেন, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী বৃষ্টির জন্য আমরা আল্লাহর কাছে নামাজ আদায় করে দোয়া করেছি। আল্লাহ তাআলা নিশ্চয়ই বান্দাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাঁর রহমতের বৃষ্টি নাজিল করবেন।
বিশেষ এই প্রার্থনায় কয়েকশত মুসল্লি ও কৃষক অংশগ্রহণ করেন। অনেকেই চোখের পানি ফেলে আল্লাহর দরবারে বৃষ্টি কামনা করেন।
ভীমখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তালুকদার বলেন, জামালগঞ্জ একটি কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকা মূলত বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফসলের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রা ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পানির অভাবে দুর্ভোগে পড়েছে পশুপাখিও।
তিনি আরও বলেন, কুসংস্কারমুক্তভাবে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী বৃষ্টি কামনায় সালাতুল ইসতিসকার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা মহান আল্লাহর কাছে রহমতের বৃষ্টি কামনা করছি।
হাওরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, দ্রুত বৃষ্টি না হলে বোরো ধানের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়বে। তাই আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি কামনায় তারা এই বিশেষ নামাজ ও দোয়ায় অংশ নেন।