সিলেটে ডিজেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেটের ৮০ ভাগ পাম্পে ডিজেল ফুরিয়ে এসেছে। এছাড়া পেট্রোল অকটেনও মিলছে না অনেক পাম্পে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানী তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে এমন শঙ্কায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে সিলেটের পেট্রোল পাম্পগুলোতে রীতিমত হুমড়ি খেয়ে পড়েন ক্রেতারা। এতে তৈরি হয়েছে সঙ্কট।
তবে বিক্রেতারা বলছেন, রোববার ডিপো থেকে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ করা হবে। এতে সোমবার থেকে এই দুই জ্বালানীর বাজার স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে ডিজেল নিয়ে শংকিত তারা।
যদিও বিক্রেতারা বলছেন, চলতি মাসে জ্বালানী তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ জ্বালানী তেল বিক্রেতাদের।
তবে বিক্রেতাদের এমন আশ্বাসে ভরসা রাখছেন না ক্রেতারা। শনিবারও সিলেটের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি ভিড় কতরছেন মোটর সাইকেল চালকরা। পেট্রোল আর অকটেনের জন্যই ভিড় করছেন তারা। এতে অনেক পাম্পে ফুরিয়ে গেছে প্রেট্রোল ও অকটেনের মজুদ। নগরের কয়িটি পাম্পে পেট্রোল ও অকেটন বিক্রি বন্ধ রাখা হয়ছে। আর ৮০ ভাগ পাম্পে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না।
নগরের কদমতলী এলাকার সুলেমান বক্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শনিবার সকাল থেকে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পাম্পের সংশ্লিস্টরা জানান, গ্রাহকদের অতিরিক্ত চাপের কারণে শুক্রবার রাতেই পেট্রোল ও অকটেনের মজুদ শেষ হয়ে গেছে।
তিনি জানান, শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকে। রোববার ডিপো থেকে তেল সরবরাহ করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
শনিবার সিলেটে বেশিরভাগড় পাম্পে মোটর সাইকেল প্রতি ২০০ টাকার অধিক পেট্রোল বা অকটেন বিক্রি রছেন না বিক্রেতারা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সিলেটের ৮০ ভাগ পাম্পে ডিজেল ফুরিয়ে গেছে। পেট্রোল অকটেনের মজুদও বেশিরভাগ পাম্পে ফুরিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, শুক্র ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকবে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকক্রেগ্রাহকদের চাপ বেড়েছে। তাই পেট্রোল ও অকটেন ফুরিয়ে গেছে। আশা করছি রোববার ডিপো থেকেসেরবরাহ করা হলে সোমবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
তবে ডিজেল নিয়ে আমরাও শংকিত। কারণ সিলেটের গ্যসি ফিল্ড থেকেই উপজাত হিসেবে পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যায়। আর ডিজেল আমদানি করতে হয়। তাই দেশে ডিজেলের কী পরিমাণ মজুদ আছে তা আমরা নিশ্চিত নই।
তিনি আরও বলেন, হুমড়ি খেয়ে সবাই যদি একসঙ্গে বেশি পরিমাণে তেল নিতে যান, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হবে। এ কারণে অপ্রয়োজনীয় মজুত না করে সাশ্রয়ীভাবে জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
তবে সিলেট বিভাগীয় ট্রাক মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শাব্বির আহমদ ফয়েজ জানান, পেট্রোল পাম্প মালিকরা ইচ্ছাকৃতভাবে ডিজেলের সঙ্কট তৈরি করেছেন।
তিনি বলেন, পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত ডিজেল রয়েছে। কিন্তু তারা চাহিদামতো বিক্রি করছেন না। মজুদ করে রাখছেন। পরে বাড়তি দামে বিক্রি করার জন্য তারা
শাব্বির বলেন, আমার গাড়ির জন্য যেখানে ৪০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু ২০ লিটারও পাচ্ছি না।