সিলেটের ওসমানীনগরে পারিবারিক বিরোধের জেরে এক প্রবাসীর বাড়ীতে হামলা, লুটপাট এবং চুরির অভিযোগে গোলায়াবাজার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক জুয়েল মিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গত ২ মার্চ ওসমানীনগর থানায় মামলাটি নিয়মিত এজাহার হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে (মামলা নং-০১)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এওলাতৈল এলাকার নিজচক গ্রামের সাজনা বেগমের পরিবারের সাথে স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা জুয়েল মিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বিশেষ করে সাজনা বেগমের লন্ডন প্রবাসী ভাই জুবের আহমদের সাথে জুয়েল মিয়ার বোন পিংকি আক্তারের বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকে উভয় পরিবারের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জুয়েল মিয়ার নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সাজনা বেগমের বসতবাড়িতে হামলা চালায়। মামলার আসামীরা হলেন— জুয়েল মিয়া, তাঁর দুই ভাই রুয়েল মিয়া (২৫) ও রুবেল মিয়া (২২), সোহেল মিয়া (৩২), রানা মিয়া (২৮) এবং দিলারা বেগম (৫০)।
বাদীনির অভিযোগ, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। আসামীদের প্ররোচনায় জুয়েল মিয়া ও তার সহযোগীরা সাজনা বেগম, তাঁর ছেলে রাফি আহমেদ এবং বৃদ্ধা মা পিয়ারা বেগমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তারা ঘর থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলা শেষে এলাকা ছাড়ার সময় মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করা হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাজনা বেগম বাদী হয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত নং-১ (ওসমানীনগর)-এ নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আব্দুল্লাহ আল নোমান বিষয়টি আমলে নিয়ে ওসমানীনগর থানার ওসিকে মামলাটি রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদুল আলম ভূঁইয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটি রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এই নৃশংস হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং আসামিদের গ্রেফাতরপূর্বক দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।