জেলার নৌ-পথে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি বন্ধে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রশাসনের উদ্যোগে মাইকিং করার পরও অতিরিক্ত টোল আদায় রোধ হচ্ছেনা। নৌপথে চাঁদাবাজি রোধে শুধু মাইকিং আর প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় এমপিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় এমপির নির্দেশে সুনামগঞ্জ জেলার বৃহৎ বালু মহাল যাদুকাটা-আবুয়া নদীতে মাইকিং করে সরকারি মূল্য তালিকা প্রচার করে বলা হয়েছে, ‘টোল বা খাস কালেকশন আদায়ের নামে বা অন্য কোন নামে কর্তৃপক্ষের নির্ধরিত হারের চেয়ে কেউ অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে পারবে না। অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার নৌ-শ্রমিকরা জানান, তাদের কথামত টাকা না দিলে বাল্কহেড আটকে রাখে। ইজারাদারের রয়েলিটিসহ যাদুকাটা থেকে বের হওয়ার সময় নদীপথে চার স্থানে টাকা দেওয়া লাগে। প্রত্যেক স্থানেই প্রতি ফুটে দেড় টাকা করে দিতে হয়।
সম্প্রতি যাদুকাটা ও আবুয়া নদীতে বিআইডব্লিউটি এর উদ্যোগে মাইকে প্রচার করা হয়েছে, নৌ-বন্দরের সীমানায় বালু ও পাথর উঠানামার জন্য প্রতি ঘনফুট বালু ২৫ পয়সা এবং প্রতি টন পাথর ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা শুল্ক নির্ধারিত রয়েছে।
বিআডব্লিউটিএ এর ইজারাদারের প্রতিনিধিকে অবশ্যই নির্ধারিত শুল্ক রেট মানতে হবে। শুল্ক আদায় কেন্দ্রে বিআইডব্লিটিএ’র আদায়ের রেট টাঙিয়ে রাখতে হবে। এর বেশি টাকা নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ বেশি নিলে নিকটস্থ নৌ-পুলিশ বা থানায় অভিযোগ জানানোর কথাও বলে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, বিআইডব্লিটিএ ঘাটের ইজারাদার তাহিরপুরের হলহলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন। এই ঘাট প্রায় ১২ কোটি টাকায় ইজারা হয়। অন্য দুই ঘাটের একটি (ফাজিলপুর) তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে উপজেলার দক্ষিণকূল গ্রামের জবা মিয়ার নামে ইজারা হয়েছে ছয় কোটি টাকায়। অন্য ঘাটটিতে (ঘাগরাঘাট) খাস কালেকশন আদায় হচ্ছে। এই দুই ঘাটের নিয়ন্ত্রণ করেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের কয়েক নেতা। তবে তাঁরা ইজারাদার নয় দাবি করে বলেন, রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য আমাদের নাম জড়ানো হয়েছে। সকল ঘাটেই সরকার নির্ধারিত হারে টাকা আদায়ের পক্ষে আমাদের সংসদ সদস্যসহ আমরা সকলেই।
বিআইডব্লিটিএ’র ঘাটের ইজারাদার নাছির উদ্দিন বলেন,‘আমরা সরকার নির্ধারিত হারেই টোল আদায় করবো।’
জেলা নৌ-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি, বাংলাদেশ ফেডারেল শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের বলেন,‘জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ঘাগড়া ও ফাজিলপুর নৌঘাটে ২০০ টনের উপরের নৌযান থেকে ৯৫০ টাকা রাখা যাবে। কিন্তু তারা রাখছে সাড়ে সাত হাজার থেকে দশ হাজার টাকা। স্থানীয় এমপি নির্দেশ দিয়েছেন সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা কারও কাছ থেকে রাখা যাবে না। অথচ তা দৃশ্যত কার্যকর হচ্ছে না। শুধু মাইকিং আর প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে চাঁদাবাজি রোধে এমপিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ্রুখ আলম শান্তনু বলেন, নদীতে বা কোন ঘাটে অন্যায়ভাবে টাকা আদায় বন্ধ করতে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল সাংবাদিকদের বলেন, অনৈতিক কাজে যে কেউ জড়িত থাকলে আমি তাদের পক্ষে থাকবো না। আমি আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকবো। গত কয়েকদিন ধরে মাইকিং করা হচ্ছে। পুলিশ টহল দিচ্ছে, যারাই অনিয়ম, দুর্নীতি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমাকে মানুষ অনেক আশা নিয়ে এমপি বানিয়েছে, আমি কোথাও চাঁদাবাজি হতে দেব না।