সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের ভান্ডা-রাজাবাজ এলাকায় একটি বিলের পানি সেচে মাছ ধরার পাঁয়তারা করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় একাধিক কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে এ লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মল্লিকপুর ও উজান দৌলতপুর গ্রামের আফজল, সাইফুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি সেচ পাম্প বসিয়ে বিলের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে মাছ আহরণের চেষ্টা করছেন। এতে বিলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও জলজ সম্পদের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিলের পানি এভাবে সেচে মাছ ধরলে আশপাশের ধানের জমিতে পানির সংকট দেখা দিতে পারে। কৃষকদের বাধা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিলের মধ্যে সেচ পাম্প বসিয়ে লম্বা বিল ও গোল বিলের পানি শুকিয়ে মাছ আহরণ করা আইন পরিপন্থী কাজ বলেও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বিলের সীমানার বাইরে থাকা সরকারি একটি ‘বালুছড়া’ নামক নালা শুকিয়েও মাছ আহরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ অবস্থায় সরেজমিন তদন্ত করে সরকারি জলাশয় ও উন্মুক্ত নালা শুকিয়ে মাছ আহরণ বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি প্রতিহিংসামূলক অভিযোগ। যারা অভিযোগ করেছেন তারা নিজেরাই তাদের বিলের অংশের পানি শুকিয়ে মাছ আহরণ করেছেন। সেই পানি তাদের জমির পাশে জমা হওয়ায় অনেকের ধানের জমিতে চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। তারা যেখানে মেশিন বসিয়েছেন সেটি গ্রামের একটি নালা, সেখান থেকে সামান্য পানি কমিয়ে নিজেদের জমিতে ধানের চারা লাগানোর উদ্দেশ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।