সুনামগঞ্জের সুরমা নদী এখন জামালগঞ্জবাসীর জন্য আতঙ্কের নাম। একসময় যে নদী জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতির ধারক ছিল, সেই নদীর ভয়াল ভাঙনে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনা লামাবাজার এলাকায় বিলীন হওয়ার পথে একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, বহু বছরের পুরোনো মাছ বাজার ও অসংখ্য দোকানপাট। প্রতিবছরই নদীভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর কিনার ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী সাচনা লামা বাজার মসজিদটি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোনো সময় সেটি নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিরা আতঙ্ক নিয়ে মসজিদে প্রবেশ করছেন। অনেকেই বলছেন, আর একটি বড় জোয়ার এলেই হয়তো ইতিহাস হয়ে যাবে এই মসজিদটি।
শুধু ধর্মীয় স্থাপনাই নয় ঝুঁকির মুখে রয়েছে সাচনা লামাবাজারের পুরোনো মাছ বাজার, আশপাশের অসংখ্য দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বাজারটি পুরো জেলার অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও স্বাধীনতার পর থেকে নদী ভাঙন রোধে বাজারটি রক্ষায় তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সাচনা বাজার মসজিদটি নদী ভাঙনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। পাশেই ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে সাচনা মাছ বাজার। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মাছের আড়ৎ ও বিভিন্ন পন্যের দোকান নদী ভাঙ্গনের কারণে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এব্যাপারে সাচনা বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি সেলিম আহমদ বলেন, সাচনা লামা বাজার মসজিদটি এখন আর নেই বললেই চলে। প্রতি বছর নদী ভাঙনের ফলে মসজিদের অধিকাংশ অংশটি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন আমরা একসময়ের বারান্দাকে মেরামত করে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করছি। তাছাড়া বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে। তাই আমরা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ, দ্রুত যেন মসজিদ ও বাজারটি রক্ষায় পদক্ষেপ নেন।
এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ উত্তর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের লামা বাজারটি আস্তে আস্তে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখানে একাধিক মাছের আড়ৎ, বরফ মিল সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যা ইতিমধ্যেই নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বেশ কিছু দোকান পাট। জরুরি ভাবে সরকার পদক্ষেপ নিলে আশা করছি বাজারের একমাত্র মসজিদ ও মাছ বাজার সহ দোকানপাটগুলো রক্ষা করা যাবে।
এব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন, এব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।