রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

গোয়াইনঘাটে বালি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: পুলিশের সামনেই কুপিয়ে জখম ৪!

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে কিনাই ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে ও তদন্ত চলাকালীন সময়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপের অতর্কিত হামলায় নারীসহ অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফতেপুর চা বাগান সংলগ্ন কিনাই ছড়া এলাকায় বালি উত্তোলন নিয়ে ৬নং ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ফখর মেম্বার গ্রুপ এবং বিএনপি নেতা ও চা-বাগানের ব্যবস্থাপক ফারুক, হারুন ও ফয়সল গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।


ফতেপুর চা-বাগানের ম্যানেজার সজিব মিয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোয়াইনঘাট থানার এএসআই জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ তদন্ত শেষে ফেরার সময় ফারুক, ফয়সল ও হারুনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক প্রতিপক্ষ আলাল মিয়ার বাড়িতে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।


সংঘর্ষে ফখর মেম্বার গ্রুপের তানভির আহমদ (১৯), আলাল মিয়া ও তাঁর স্ত্রী রাহিমা বেগম এবং প্রতিপক্ষ গ্রুপের বিএনপি নেতা ফারুক আহমদ আহত হন। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলাল, তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগম এবং তানভির আহমদকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে।


হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯ বছর বয়সী তানভির আহমদের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁকে বিশ্রামে রাখা হলেও অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। অন্যদিকে, আলাল ও তাঁর স্ত্রী রহিমা বেগমের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটাপন্ন। টাকার সংস্থান না হওয়ায় তাঁদের প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করাতে চিকিৎসকরা বিলম্ব করছেন বলে প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে।


সংঘর্ষের খবর পেয়ে ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন ও ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এখলাছুর রহমানসহ এলাকার মুরুব্বিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাঁরা সেখানে অবরুদ্ধ ও আশ্রিত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন এবং আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।


বিএনপি নেতা ফারুক আহমদের ছেলে হারুনুর রশীদ বলেন, বাগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তদন্ত করতে এলে ফখর গ্রুপের লোকজন আমার পিতার ওপর হামলা চালায়। এতে আমার পিতা গুরুতর আহত হয়ে ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আমরা এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।


অন্যদিকে, সাবেক ইউপি সদস্য ফখর উদ্দিনের ছেলে ছবুর উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের কোনো গ্রুপ নেই এবং আমরা বালি উত্তোলনের সাথে জড়িত নই। ফারুক ও তাঁর বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই লিজের নামে বাগান থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করছে। হামলার সময় পুলিশ আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে চেয়ারম্যান ও মেম্বার এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।


এএসআই জাকির হোসেন জানান, চা-বাগানের ম্যানেজারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তদন্তে গিয়েছিলাম। তদন্ত শেষে চলে আসার পর সংঘর্ষের খবর শুনেছি।


গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সংঘর্ষের বিষয়টি আমি গুরুত্বের সাথে দেখছি। বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, কিনাই ছড়া থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করায় ঘরবাড়ি ও চা বাগান চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই ‘বালি খেকো’ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

এই সম্পর্কিত আরো