সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার মো. শফিকুল ইসলাম খান (বিপি)। মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্ট তামিল, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি এবং আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অনন্য সাধারণ ভূমিকা পালন করায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সিলেট পুলিশ লাইন্সের মাসিক কল্যাণ সভায় জানুয়ারি মাসের পারফরম্যান্স বিবেচনায় তাকে শ্রেষ্ঠ ওসির পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার তুলে দেন সিলেট জেলার পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলম।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রাসেলুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকির হোসাইন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ডি. এম. হাসিবুল বেনজির এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আশরাফুজ্জামান (পিপিএম-সেবা) সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
ওসির সাফল্যের পাশাপাশি কোম্পানীগঞ্জ থানার আরও দুই কর্মকর্তা তাদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বিভিন্ন অভিযানে সাহসিকতা, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার ও মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ এসআই’ হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন এসআই আমিরুল ইসলাম। অন্যদিকে, মাদক উদ্ধার ও ওয়ারেন্ট তামিলে সাফল্যের জন্য ‘শ্রেষ্ঠ এএসআই’ নির্বাচিত হয়েছেন একই থানার এএসআই নোমান মিয়া। একযোগে এক থানার তিন কর্মকর্তার এমন অর্জন জেলা পুলিশের ইতিহাসে এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শ্রেষ্ঠ ওসির মর্যাদা পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, যেকোনো পুরস্কারই কাজের উৎসাহ ও দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দেয়। এই অর্জন আমার একার নয়, এটি থানার প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে অনেকেই ফায়দা নিতে চায়। এদের বিরুদ্ধে আমার থানার পুলিশ আরও সতর্ক ও কঠোর হবে। আমরা চাই না কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হোক। প্রকৃত অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই। এই সাফল্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মানুষের জন্য উৎসর্গ করে তিনি বলেন, উপজেলার সাধারণ মানুষ কর্তব্য পালনে সহযোগিতা না করলে এই অর্জন সম্ভব হতো না।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি মাসে কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান, ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং দাপ্তরিক কাজে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বজায় রাখায় ওসি শফিকুল ইসলাম খানকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে থানা এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার এই অভাবনীয় সাফল্যে স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকেও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, পুলিশের এই পেশাদারিত্ব ও জনবান্ধব সেবা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।