গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হিলালপুর, রফিপুর ও আওরীবাড়ি এলাকায় ফসলি জমির টপসয়েল কাটার অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দিনে-দুপুরে একাধিক ভেকু মেশিন দিয়ে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে বিক্রি করা হলেও কার্যত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।
অভিযোগ উঠেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা হেলাল আহমদের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। হেলাল আহমদ ফুলবাড়ি ইউনিয়নের রফিপুর গ্রামের ইসবর আলীর পুত্র। তার বিরুদ্ধে গণ-অভ্যুত্থানে হামলার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। শুধু কৃষিজমিই নয়, সরকারি মেদ্দি হাওরের খালের পাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এতে হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা বাধা দিতে গেলে উল্টো হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে ‘ওসি-পুলিশ আমার পকেটে’— এমন কথাও বলা হয়েছে বলে দাবি করেন কয়েকজন বাসিন্দা। ফলে অনেকে ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।
অভিযোগের বিষয়ে হেলাল আহমদের মুটোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার সাথে সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ফসলি জমি ও সরকারি খাল থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। মাটিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল মাহমুদ ফুয়াদ বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম বলেন, যে কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।”
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ভেকু মেশিন জব্দ ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে কৃষিজমি ও হাওরের পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।