ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, আপনারা কি আরেক হাসিনা হতে চান? তাহলে বলে দিন। হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছি, যেভাবে লাথি দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছি, ঠিক সেভাবেই আপনাদের সঙ্গেও ডিল করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ আয়োজিত এক বিশাল গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১২ ফেব্রুয়ারির প্রস্তাবিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নাম উল্লেখ না করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) কড়া সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, একটি দল গণভোটে ‘না’ এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ‘না’ মানে হচ্ছে ভারতের দালালি করা, দিল্লির দালালদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং বিচারিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পুনরায় জাতীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যার পরিকল্পনা করা। জুলাই প্রজন্মের বিপ্লবীরা বেঁচে থাকতে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ও ‘না’ এর পক্ষালম্বনকারীদের কোনো ঠাঁই হবে না।
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে এসে দলটি এখন চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি ধারণ করছে। নিজেদের ভুল সংশোধন করে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করুন এবং দ্রুত ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন শুরু করুন। অন্যথায় ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে গণরায় দেবে।
গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, এই ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে হলো জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। এটি কৃষকের সন্তানকে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক বানানোর পথ প্রশস্ত করবে। ‘হ্যাঁ’ মানে হলো খুনি হাসিনা ও তার দোসরদের আয়নাঘর ও গুম-খুনের রাজনীতির বিচার নিশ্চিত করা।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে যাতে কোনো চাঁদাবাজ বা জালিমের হাতে ক্ষমতা না যায়, সেজন্য আমাদের ইনসাফের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়া মানে কোনো দলকে জেতানো নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন আগামীর বাংলাদেশ গড়া।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবীবুর রহমানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রশিবিরের জেলা ও মহানগর শাখার বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এই সমাবেশে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গণভোটই সবচেয়ে কার্যকর গণতান্ত্রিক মাধ্যম। প্রতিটি গ্রাম ও মহল্লায় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালো প্রচারণা চালানোর জন্য তারা সিলেটের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।