সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট প্রদানে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি কাউকে ‘হ্যাঁ’ বলতে বলব না, আবার ‘না’-ও বলব না। এটি সম্পূর্ণ ভোটারদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয়।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিসি ইলিয়াস মিয়া আরও বলেন, ভোটার যদি মনে করেন ‘না’ তে ভোট দিলে ভালো, তবে তিনি সেখানেই ভোট দেবেন। আর ‘হ্যাঁ’ ভালো মনে করলে সেখানে দেবেন। এটি জনগণের অধিকার। তবে আমাদের দায়িত্ব হলো জনগণকে সচেতন করা, যাতে তারা না জেনে ভোট দিয়েছেন—এমনটি বলতে না পারেন। ‘হ্যাঁ’ ভোটের কিছু বিষয়ে জনকল্যাণের দিক রয়েছে, যা আমরা তুলে ধরতে চাই।
গণভোটে সরকারের পক্ষ থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালানো হলেও জেলা প্রশাসকের এমন নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এখন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি। তাই আমার অবস্থান ও দায়িত্ব ভিন্ন।”
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দোয়ারাবাজার সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শাওন, ছাতক-দোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মো. মুরসালিন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সালেহীন খাঁন।
সভায় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আজিজুল হক, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সামছুল হক নমু, উপজেলা জামায়াতের আমীর ডা. হারুন অর রশীদ ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলতাফুর রহমান খসরু। এছাড়া সংবাদিকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালিব ভূইয়া।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। পৃথক ব্যালটে ভোটাররা চারটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর তাদের সমর্থন জানাতে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেবেন। সরকার দেশব্যাপী এই সনদের পক্ষে প্রচার চালালেও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের এমন স্বতন্ত্র বক্তব্যে স্থানীয় মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন নিরপেক্ষ অবস্থান ‘হ্যাঁ’ ভোটের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।