সিলেটের গোয়াইনঘাটের প্রায় ৬ শতক সরকারি জমি দখল ও মাটি ভরাট করে দোকানঘর স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন হাদারপার পার গ্রামের ফয়জুর রহমান ও তার পরিবার। মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি এ খাস জমি দখল মুক্ত করেছে উপজেলা প্রশাসন।
এরআগে গত এক মাস ধরে সরকারি জমি দখল ও মাটি ভরাট করে দোকানঘর স্থাপনা নির্মাণ শুরু করা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুর দেড় টার দিকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে পরিচালনা করে গোয়াইনঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক। উচ্ছেদ অভিযানে প্রায় ৬ শতক জমি দখলমুক্ত হয় এবং নির্মাণাধীন সামগ্রী রড, সিমেন্ট, ১ টি বৈদ্যুতিক মিটার, ঢেউটিন জব্দ করা হয়।এ সময় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণে জরিত থাকা কাউকে না পাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি।
উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করেন সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আলমগীর হোসেন, গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের এএসআই নীহার, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জাকির হোসেন,তোয়াকুল ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, দেলোয়ার হোসেন, লাফনাউন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, আবু বকর গাজী, উপজেলা ভূমি অফিসের নামজারী সহকারী, অসিম চন্দ্র দাস সহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা।
অভিযান পরিচালনার আগে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার নিষেধ করা হলেও বন্ধ করেনি মাটি ভরাট ও দোকানঘর নির্মাণ।অভিযানে পাকা করে নির্মাণধীন খুটি ভেঙে দেওয়া হয় ।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক বলেন, ফয়জুর রহমান নামে এক ব্যক্তি তার পরিবার লামার বাজারে নদীর পাড়ে বেশ কয়েকদিন ধরে সরকারি খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে একটি কাঠামো নির্মাণ করার চেষ্টা করে আসছে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার নিষেধ করা সত্ত্বেও নিষেধ অম্যান্য করে মাটি ভরাট ও পিলার নির্মাণ করে আসছিল।বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি।অভিযানে পাকা পিলার ও শ্রমিকদের থাকার সেড ভাঙ্গা হয়েছে এবং নির্মাণ সামগ্রী রড,সিমেন্ট, টিন ও বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে জড়িত কাউকে না পাওয়া মোবাইল কোর্ট করা হয়নি তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামালা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, আজ রুস্তমপুর একটি নদীর চর রয়েছে, সেখানে বাচ্চারা খেলাধুলা করে। একটি চক্র সেটি দখলের জন্য স্থাপনা তৈরীর চেষ্টা করিছিল। উপজেলা প্রশাসন কতৃক বারবার সরানোর কথা বলা হলে ও না সরানোয় আজ এসিল্যান্ডের উপস্থিতিতে এই অবৈধ স্থাপনা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নির্মাণ সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে , তাছাড়া শ্রমিকদের থাকার সেড ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরোও বলেন , খেলাধুলা মাঠ দখলও বাধা প্রদানকারী যারাই হোক তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।