মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মনু নদের ওপর নবনির্মিত রাজাপুর সেতুর নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে বালু মহালের ইজারাদার নাজমুন নাহার লিপি গংকে আবারো দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দুপুরে উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত রাজাপুর ব্রিজের ১ কিলোমিটারের ভেতর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন কুলাউড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুল ইসলাম। এসময় বালুমহালের ইজারাদার নাজমুন নাহার লিপির পক্ষে তার ম্যানেজার সাকিবকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর আওতায় দুই লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং বালু উত্তোলনের সরঞ্জামাদি নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে স্থানান্তর করা হয়। অভিযানে কুলাউড়া থানা পুলিশের সদস্য ছাড়াও পৃথিমপাশা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সেলিম আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া-পৃথিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর সড়কে মনু নদের ওপর ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন রাজাপুর সেতু ও হাজীপুর-টিলাগাঁও ইউনিয়নে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ব্রাহ্মণবাজার-শমসেরনগর সড়কে মনু নদীর ওপর নির্মিত কটারকোনা সেতুর এক কিলোমিটারের ভেতর থেকে দীর্ঘদিন ধরে নদী শাসন আইন না মেনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন হবিগঞ্জের যুবলীগ নেতা সেলিম আহমদের স্ত্রী বর্তমান ইজারাদার নাজমুন নাহার লিপি ও তার সহযোগি দীপক দে। এতে জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু দুটি চরম হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগে গত চার মাসে কয়েক দফায় ইজারাদারকে প্রায় ছয় লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন, তবু থামছে না বালু উত্তোলন। জনগুরুত্বপূর্ণ সেতু দুটি রক্ষায় স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার আহবান জানান নদী তীরবর্তী এলাকার ভুক্তভোগী লোকজন।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের নির্দেশে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার বালুমহালের ইজারাদারকে কয়েক লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নিয়ম না মেনে ফের বালু উত্তোলন করলে আরো কঠোর দন্ড আরোপ করা হবে। অভিযানে বালু উত্তোলনের স্থাপনাগুলো নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইজারা চুক্তি ভঙ্গ করে বালু উত্তোলন বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।