মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল লালবাগে ২৬তম বর্ষে ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে এক অভিনব ও ইতিহাসনির্মাণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের বিশেষত্ব, এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, পুরো এশিয়ার মধ্যে প্রথমবার উদযাপিত হলো মা সরস্বতীর ১৬ রূপে পূজা।
গত বছর লালবাগ যুব কিশোর সংঘ ২১ ফুট লম্বা ধানের সরস্বতী প্রতিমা নিয়ে নজির স্থাপন করেছিল। এবার তাদের উদ্যোগে ১৬ রূপে মা সরস্বতীর প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে, যা শিল্প ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক অনন্য মিলন। অনুষ্ঠানটি গোসাইবাড়ি রোড, লালবাগ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী শ্রেয়া চক্রবর্তী এবং ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী শ্রাবন্তী চক্রবর্তী অঞ্জলি গ্রহণের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। শ্রেয়া বলেন, “মা সরস্বতীর এই ১৬ রূপ সত্যিই অদ্ভুত সুন্দর। মা আমাদের জ্ঞান ও শিক্ষার আলো দিক।” শ্রাবন্তী যোগ করেন, “এত সুন্দর ও বিশাল পূজা দেখে আনন্দ ও ভক্তি একসাথে উত্থান পেয়েছে।”
এশিয়ার এই প্রথম পূজা দেখতে আসা কাতার প্রবাসী সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, “আমি বিশ্বজুড়ে এমন কোনো অনুষ্ঠান আগে দেখিনি। সরস্বতীর ১৬ রূপে পূজা সত্যিই অনন্য। এটি শুধু ধর্মীয় নয়, শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।”
এবারের অনুষ্ঠানের সভাপতি কৌশিক দত্ত বলেন, “১৬ রূপে মা সরস্বতী পূজা উদযাপন আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। আমাদের লক্ষ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা। আশা করি ভবিষ্যতেও এমন অনন্য উদ্যোগ সমাজকে নতুন দিশা দেখাবে।”
অনুষ্ঠানটি ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। তবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এশিয়ার মধ্যে প্রথম এই পূজা কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি শিক্ষার, সংস্কৃতির এবং সমাজসেবার এক অনন্য মিলনস্থল হিসেবে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।