সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী বশিরপুর মাস্টার বাড়িতে প্রভাতী মক্তব পুনরায় চালু হয়েছে। এটি হারানো গ্রামীণ শিক্ষার ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সঠিক ভিত্তি গড়ে তুলবে।
জানাগেছে, বশিরপুর মাস্টার বাড়ি মক্তবটি ১৮৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন এখানে কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি আরবি ও বাংলা শিক্ষা দেওয়া হতো। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালে মসজিদ নির্মাণের কারণে মক্তবটি মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থানান্তর করা হলেও, নারী শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে পুনরায় মাষ্টার বাড়িতে মক্তব কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে মক্তবে ৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন। এখানে শিশুদের সূরা, কেরাত, নামাজ, কুরআন তেলাওয়াতসহ নুরানি শিক্ষার পাঠদান করা হচ্ছে। ক্লাস সপ্তাহে ছয় দিন (শুক্রবার ব্যতীত) অনুষ্ঠিত হয়। মক্তবের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বশিরপুর পঞ্চায়েত কমিটির তত্ত্বাবধানে এবং জহুর-হুসনেআরা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অর্থায়নে।
জহুর-হুসনেআরা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উপদেষ্টা প্রফেসর বদরুজ্জামান জানান, মক্তব শিক্ষা শিশুদের নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনে শক্ত ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তবে বর্তমানে মুরুব্বিদের শূণ্যতা ও অভিভাবকদের সচেতনতার ঘাটতি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি মক্তব সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের আশ্বাস দেন।
মক্তবের শিক্ষক হাফিজ মাওলানা মামনুনুর রহমান বলেন, “শুরুর দিকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম ছিল, তবে ধীরে ধীরে বাড়ছে। অভিভাবকরা সক্রিয়ভাবে সন্তানদের সঙ্গে মক্তবে আসছেন, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।” ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লে শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ এবং অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন হবে বলেও তিনি জানান।
২০২৪ সালে পুনরায় চালু হওয়া মক্তবের সমাপনী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে চারজন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে সনদ, কুরআন শরীফ এবং সচিত্র নামাজ শিক্ষার বই তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জহুর-হুসনেআরা মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উপদেষ্টা প্রফেসর বদরুজ্জামান, মক্তব শিক্ষক হাফিজ মাওলানা মামনুনুর রহমান, বশিরপুর পঞ্চায়েত কমিটির বিভিন্ন কর্মকর্তা, শিক্ষানুরাগী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।