বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোববার (২৫ জানুয়ারি) এক র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কুষ্ঠ রোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আক্রান্তদের প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—‘এখনই কাজ শুরু করি, কুষ্ঠ রোগ নির্মূল করি’।
কুলাউড়ার ২৪টি চা বাগানসহ মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগানের শ্রমিকরা কুষ্ঠ রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। হীড বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ সংক্রামক এ রোগের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশে মোট ৯ জেলা কুষ্ঠ রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে প্রতি লাখে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষ আক্রান্ত। এ জেলার মধ্যে মৌলভীবাজার, মেহেরপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রংপুর, ঠাকুরগাঁও ও জয়পুরহাট উল্লেখযোগ্য। মধ্যম ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকাসহ ছয় জেলা, আর নিম্ন ঝুঁকিতে ৩৪টি জেলা রয়েছে।
কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার জাকির হোসেন সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে টি এল সি এ ইনচার্জ মোঃ লুৎফুর রহমান পরিচালনা করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শারমিন ফারহানা জেরিন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল, প্রেসক্লাব কুলাউড়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ময়নুল হক পবন, নার্সিং সুপারভাইজার দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র পাল প্রমুখ।
ডা. জাকির হোসেন জানান, কুষ্ঠ রোগ নিয়ে সমাজে এখনও বিভিন্ন কুসংস্কার বিদ্যমান। অনেক রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিতে দ্বিধা বোধ করেন, যার ফলে সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সৃষ্টি করে। তিনি আরও বলেন, “চা বাগানের শ্রমিকরা বিশেষত ঝুঁকির মধ্যে আছেন। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে কুষ্ঠ রোগ সহজেই নির্মূল করা সম্ভব।”
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হীড বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় এ বিষয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বর্তমানে অনেকেই হাসপাতালে এসে রোগ পরীক্ষা করাচ্ছেন, যার ফলে সংক্রমণ রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।