শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
গোলাপগঞ্জে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর দৃষ্টি নন্দন মসজিদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু কোম্পানীগঞ্জে মদের চালান আটক! পৃথক অভিযানে, আটক- ৫ গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হলে বিপ্লবী সরকার গঠনের আশঙ্কা জিএম কাদেরের সিরিয়া থেকে হাজার হাজার বন্দিকে নতুন গন্তব্যে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের সাথে এম এ মালিকের নির্বাচনী বৈঠক ধর্ম ও বর্ণভেদে নয়, সকল মানুষের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা মানুষ জানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশে আর অনাচার ফিরবে না: প্রেস সচিব বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কেউ নেই: মির্জা ফখরুল নির্বাচনী হালচাল হবিগঞ্জ-২ - বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সব ওয়ার্ডে একযোগে ধানের শীষের প্রচার মিছিল
advertisement
সিলেট বিভাগ

প্রবাসে মৃত্যু, ক্ষতিপূরণ ও মর্যাদাহীনতা: সিলেটের পরিবারগুলোর নীরব সংগ্রাম

মাত্র ছয় মাস আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার শিমুলতলা মুক্তিরগাঁও গ্রামের শাহ হক আহমেদ জামাল (৪০)। দেশে রেখে যান স্ত্রী ও দুইটি ছোট শিশু সন্তান। কিন্তু প্রবাসের সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তার শেষ যাত্রা।

গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নানা জটিলতার কারণে মরদেহ দেশে পাঠানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২১ জানুয়ারি তাকে সৌদি আরবেই দাফন করা হয়।

স্বজনরা জানান- তার মৃত্যুর পর কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তারা জানতে পেরেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

শাহ হক আহমেদ জামালের পরিবার একা নয়। সিলেট অঞ্চলের অসংখ্য প্রবাসী পরিবারের বাস্তবতা আজ প্রায় একই। বিদেশে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করা শ্রমিকদের পরিবারগুলো লাশ ফেরত আনা, মৃত্যুর কারণ জানা, ক্ষতিপূরণ আদায় এবং রাষ্ট্রীয় সহায়তা পেতে গিয়ে বছরের পর বছর জটিলতা ও অবহেলার শিকার হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকরা কর্মস্থলে দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, হৃদরোগ এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করছেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পরিবার জানতে পারে না। লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ, ব্যয়বহুল ও জটিল হওয়ায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে প্রিয়জনকে বিদেশের মাটিতেই দাফন করতে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি পরিবারগুলোর ওপর ভয়াবহ মানসিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। প্রবাসীর মৃত্যু শুধু একটি জীবনের অবসান নয়—এটি একটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, শিশুদের শিক্ষা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। অনেক পরিবারেই শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, চিকিৎসা ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে এবং ন্যূনতম জীবনযাপন অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে নগরীর গোয়াইপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আজিরউদ্দিন বলেন-আমার বড় ভাই মো. দয়াল আহমদ সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে মারা যান। আমরা তার লাশও দেখতে পারিনি। লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া এত জটিল ছিল যে তাকে সেখানেই দাফন করতে হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ পাইনি। ভাইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই আমাদের পরিবারের ওপর দুঃখের ছায়া নেমে আসে। কিছুদিন পর মা-ও মারা গেলেন। একের পর এক প্রিয়জন হারানোর এই ধাক্কা আমরা সহ্য করতে পারছি না। রাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো সহায়তা না পাওয়ায় আমরা মানসিক ও আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছি।

ওসমানীনগরের এক প্রবাসীর স্ত্রী জানান- তার স্বামী সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে মারা যান। মৃত্যুর পর লাশ দেশে আনতে তিন মাসেরও বেশি সময় লেগে যায়। তিনি বলেন, “এই সময় কাগজপত্রের জটিলতা আমি একা বুঝে উঠতে পারিনি। দালালরা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরিয়েছে। সরকার বা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো নির্দিষ্ট সহায়তা পাইনি। ক্ষতিপূরণ চাইনি, শুধু মর্যাদার সঙ্গে বিষয়গুলো সম্পন্ন হোক—এটাই চেয়েছিলাম। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াই আমাদের পরিবারকে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, কর্মরত অবস্থায় কোনো প্রবাসী শ্রমিক মারা গেলে তার পরিবার ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা। তবে বাস্তবে কাগজপত্রের জটিলতা, দূতাবাসের সমন্বয়হীনতা এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে সেই ক্ষতিপূরণ অনেক ক্ষেত্রেই আটকে থাকে। দরিদ্র পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় দলিল জোগাড় করতে না পারায় বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকতে হয়।

এ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাহমিনা ইসলাম বলেন- প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর পর পরিবারগুলো মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। লাশ ফেরত আনা, ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং সরকারি সহায়তা পাওয়া দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি সামাজিক কাঠামোকেও প্রভাবিত করছে। প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং মৃত্যুর পর মর্যাদা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি ও তার বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।

লন্ডনপ্রবাসী আলেয়া বেগম বলেন- প্রবাসী শ্রমিকরা শুধু নিজের জীবন নয়, পরিবারের ভবিষ্যৎও ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন। কিন্তু মৃত্যুর পর তাদের পরিবার নিরাপত্তা বা ক্ষতিপূরণ কিছুই পাচ্ছে না। সরকারের সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের মর্যাদা রক্ষা সম্ভব নয়।

 এ বিষয়ে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থাপক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত টিআইপি হিরো অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত আল-আমিন নয়ন বলেন-বিদেশে কাজের সময় নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না হলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তেই থাকবে। মৃত্যুর পর লাশ দেশে আনা ও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ না হলে পরিবারগুলো বছরের পর বছর বঞ্চিত থাকবে। সরকারি সংস্থা ও দূতাবাসগুলোর কার্যকর সমন্বয় ছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের মর্যাদা ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এই সম্পর্কিত আরো

গোলাপগঞ্জে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার

ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর দৃষ্টি নন্দন মসজিদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

কোম্পানীগঞ্জে মদের চালান আটক! পৃথক অভিযানে, আটক- ৫

গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হলে বিপ্লবী সরকার গঠনের আশঙ্কা জিএম কাদেরের

সিরিয়া থেকে হাজার হাজার বন্দিকে নতুন গন্তব্যে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের সাথে এম এ মালিকের নির্বাচনী বৈঠক

ধর্ম ও বর্ণভেদে নয়, সকল মানুষের নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

মানুষ জানে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে দেশে আর অনাচার ফিরবে না: প্রেস সচিব

বিএনপি ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কেউ নেই: মির্জা ফখরুল

নির্বাচনী হালচাল হবিগঞ্জ-২ বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সব ওয়ার্ডে একযোগে ধানের শীষের প্রচার মিছিল