বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘প্ল্যান আছে চার কোটি ফ্যামিলি কার্ড। প্রাথমিকভাবে দুই কোটি পরিবারের প্রধান নারীকে এই কার্ড দেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটের একটি হোটেলে ‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ অনুষ্ঠানে তরুণদের কথা শুনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তারেক রহমান।
তরুণদের উদ্দেশে নিজেও দিকনির্দেশনা দেন। উপস্থিত তরুণরা সবাই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত।
চিকিৎসাব্যবস্থা বিষয়ে এক প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার সময় পল্লী চিকিৎসা ফিরিয়ে আনা হবে। পল্লী চিকিৎসকের আদলে হেলথ কেয়ারের প্রচলন করা হবে।’
চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে এবং প্রাথমিকভাবে দুই কোটি পরিবারের হাতে এই কার্ড দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবার প্রধান নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। যার কাছে রিসোর্স থাকে, তার সম্মান থাকে। একটি পরিবারকে ওই নারীর কাছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মাসিক ক্যাশ পৌঁছে দেব। আরেক দিকে অ্যাসেনশিয়াল ফুড আইটেম দেব। প্রথমতঃ ফ্যামিলির হেলথের পেছনে; দ্বিতীয়ত এডুকেশন; থার্ড ছোট ছোট কাজে ইনভেস্ট করবে। লোকাল ইকোনোমিতে খরচ করবে।
প্রথম এক-দুই বছরে কিছু হবে না। পাঁচ বছর পর পরিবর্তন আসবে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে, পরিবার সুস্থ্য থাকবে। ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় এগিয়ে যাচ্ছে, এভাবে যদি প্ল্যান করি, পাঁচ থেকে সাত বছর পর ওই গ্রামের অন্তত ১০টি পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা দেখা দেবে। দুই কোটি পরিবারকে এই ব্যবস্থায় নিয়ে আসতে পারলে ইকোনোমির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসবে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ১৩৮টি প্রোজেক্ট চলছে। ১৩৮টির অনেকটি হয়তো চালু নেই। এই রিসোর্সকে এক জায়গায় নিয়ে আসব।’
ফ্যামিলি কার্ড কারা পাবে? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘একজন কৃষকের ওয়াইফ যেমন পাবে, একজন ভ্যানচালকের ওয়াইফ পাবে, ইমাম সাহেবের ওয়াইফ পাবে। ইউএনও সাহেবের ওয়াইফ পাবে। তবে ইউএনও সাহেবের ওয়াইফ হয়তো নেবেন না। তবে সবার জন্য সুযোগ থাকবে।’
‘সিলেটে কাকের সংখ্যা কমে গেছে। আগে কাকের ডাকে ঘুম ভাঙত...’, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর এই প্রশ্নে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগে কাকের ডাকে ঘুম ভাঙত, এখন যানবাহনের হর্নের শব্দে ঘুম ভাঙে’।
পরিবেশ ও প্রতিবেশ এবং বর্জ্য পরিকল্পনা বিষয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি ঢাকার চেয়ে সিলেটের বর্জ্য ব্যবস্থানা ভালো বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘ঢাকার চেয়ে সিলেট পরিচ্ছন্ন দেখেছি। রাতে যেটুকু দেখলাম ভালো।’
শিক্ষার্থীদের এই মতবিনিময় পর্ব চলাকালে সিলেটে বিএনপির নির্বাচনি জনসভার কথা বলেন। আলিয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনি জনসভার প্রসঙ্গ তুলে মতবিনিময় শেষ হয়।
এ সময় আয়োজকরা শিক্ষার্থীদের আর কোনো প্রশ্ন থাকলে লিখিতভাবে জমা দেওয়ার অনুরোধ করেন।