মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় বনবিভাগের মাঠপর্যায়ে নিয়োজিত কর্মবীর সিলেট বনবিভাগে দীর্ঘদিন ধরে বন বিট অফিসার হিসেবে নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মো. আহমদ আলী।
জানা যায়, আহমদ আলী (এফ.জি) দায়িত্বশীলতা, সততা ও গভীর বনপ্রেম এই তিন গুণের সমন্বয়ে সিলেট অঞ্চলে বন ও বনভূমি বনসম্পদ বন্য প্রাণী রক্ষা সহ নতুন বন সৃজনে এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত। বনকে ভালোবেসে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ জ্ঞান একাধিক গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
তাঁর রচিত বাংলাদেশের বন ও বনায়ন বিষয়ক গবেষণাধর্মী গ্রন্থটি নতুন তরুণ বনকর্মীদের জন্য জ্ঞান, দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণার এক গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আত্মোন্নয়নেও ছিলেন সমানভাবে সচেতন। সেই ধারাবাহিকতায় সফলভাবে পল্লি চিকিৎসক (RMP) হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন আহমদ আলী। গ্রামীণ অনগ্রসর মানুষের সেবা এবং পরিবেশের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির এই দুই ক্ষেত্রেই তাঁর আগ্রহ ও যোগ্যতা তাঁর বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের পরিচয় বহন করছে।
আহমদ আলীর বনপ্রেমের পেছনে রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্যের সুস্পষ্ট প্রভাব। তার বাড়ী কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের উত্তর পাবই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা মরহুম মো. কদর আলীর ছেলে।
আহমদ আলীর পিতা মো. কদর আলী ছিলেন বনবিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তার পিতার হাত ধরেই শৈশবে বনজীবন ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার বীজ রোপিত হয় তাঁর মনে, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় আজীবনের পেশাগত অঙ্গীকারে।
দীর্ঘ কর্মজীবনে একনিষ্ঠতা, সততা ও দায়িত্ববোধের অনন্য সমন্বয়ে আহমদ আলী আজ সিলেট বনবিভাগের এক উজ্জ্বল নাম। তিনি একজন প্রকৃত বনপ্রেমিক যিনি তাঁর কর্ম, চিন্তা ও লেখনীর মাধ্যমে বারবার প্রমাণ করে চলেছেন যে, বন রক্ষায় অনুরাগ, জ্ঞান ও সততার কোনো বিকল্প নেই।