বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

ভাগ্য বদলাতে ‘ধানের শীষে’ ভোট চাইলেন তারেক রহমান

সিলেট থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পর বৃহস্পতিবার বিকালে মৌলভীবাজার জেলার শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এই আহ্বান জানান।

তারেক বলেন, “দেশকে যদি বাঁচাতে হয়, ইনশাল্লাহ আগামী মাসের ১২ তারিখে যে নির্বাচন… এই দেশের বহু মানুষ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছে, বহু মানুষ গুম খুনের শিকার হয়েছে।”

“সেই নির্বাচনের মাধ্যমে যদি আমরা দেশে গণতন্ত্রের সূচনা করতে চাই, একই সাথে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই, তাহলে কোথায় সিল মারতে হবে? ধানের শীষে আমাদেরকে সিল মারতে হবে।”

দেশ পুনর্গঠনে সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তারেক রহমান।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদেরকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করতে হবে, দেশে মানুষের কথা বলার অধিকার দিতে হবে। একমাত্র এই নিশ্চয়তা দিতে পারে কে? কোন দল?

“ধানের শীষ একমাত্র দিতে পারে এই নিশ্চয়তা। এখানে বহু মুরুব্বি মানুষ উপস্থিত আছেন। মুরুব্বিরা সাক্ষী আছেন, যখনই ধানের শীষ দেশ পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তখনই পৌরসভার ইলেকশন হোক, ইউনিয়ন পরিষদের ইলেকশন হোক, আল্লাহর রহমতে মোটামুটি ঠিকঠাকভাবে ইলেকশন হয়েছে। ”

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “যখন ধানের শীষ ক্ষমতায় ছিল, প্রত্যেকটা মানুষ মন খুলে কথা বলতে পেরেছে, সরকারের সমালোচনা করতে পেরেছে। যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে, সরকারকে বলতে হয়েছে। কোনো মানুষ গুমের শিকার হয়নি, খুনের শিকার হয় নাই।”

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আমি একটানা ১৭ বছর পর যখন বিদেশ থেকে ফিরে এসেছি, একটি কথা বলেছিলাম- মনে আছে আপনাদের, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছিলাম না? সেই প্ল্যানের অর্থ একটি অংশ হচ্ছে আমরা এদেশের বেকার যারা যুবক আছে; শিক্ষিত হোক, অল্প শিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত- সকল মানুষের জন্য আমরা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। যাতে এই মানুষগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, শক্ত ভিত্তির ওপর যাতে এই মানুষগুলো দাঁড়াতে পারে।”

তিনি বলেন, “যুব সমাজের যারা সদস্য, তরুণ সমাজের যারা সদস্য- তাদের শুধু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নয়; আমরা তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবেও সক্ষম গড়ে তুলতে চাই। যেন আপনারা লন্ডনে যান, অথবা এখান থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যান, অথবা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে যান; আমরা আপনাদেরকে ট্রেনিং দিয়ে পাঠাব; আপনাদেরকে সেই দেশের ভাষা শিক্ষা দিয়ে পাঠাব, যাতে ওই দেশে গিয়ে আপনারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা দ্রুত করতে পারেন।

“যাতে করে আপনাদের আয়-রোজগার যদি আপনারা কোনো রকম দক্ষ না হয়ে সে দেশে যান, আয় রোজগার কম হবে; কিন্তু যদি কোনো ট্রেনিং নিয়ে যান তাহলে কী হবে? রোজগার বেশি হবে না? আমরা সেই ব্যবস্থা এদেশের মানুষের জন্য করতে চাই।”

দেশে ফের ‘ভোট চুরির ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “ফেইসবুকে দেখেন, পত্রপত্রিকায় এসেছে একটি সংবাদ; কী সেই সংবাদ? মধ্যপ্রাচ্যসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এনআইডি কার্ড নিয়ে মোবাইল নম্বর নিয়ে মা বোনদেরকে বিভ্রান্ত করছে একটি দল; দেখেছেন? একটি দল বিভিন্ন ভাবে বিভ্রান্ত করছে।

“আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর ১৬ বছর জনগণের ভোট ডাকাতি হয়েছে, এখন এই দেশে এখন বর্তমানে আরেকটি রাজনৈতিক দল তারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এখানে আজকে যারা উপস্থিত আছেন, আপনাদের কাছে আমি বিনীত অনুরোধ করব এবং আপনাদের মাধ্যমে এই পুরো জেলার চারটি নির্বাচনি এলাকার যত ভাই-বোন, মুরুব্ব আছেন, যারা দাঁড়িয়ে আছেন- সকলকে আমি অনুরোধ করব, অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সজাগ থাকার জন্য।”

তিনি বলেন, “এরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং এরা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। পত্রিকায় পড়েছি আমরা, সোশাল মিডিয়াতে দেখেছি যে ব্যালট পেপার তারা গায়েব করে দিচ্ছে; সব ব্যালট পেপার নিজেদের পক্ষ নিয়ে নিয়েছে অর্থাৎ আবার ভোট চুরির প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছে।”

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “এখন ভাই এই যে দলটি সম্পর্কে সজাগ থাকতে বললাম; এই দল সম্পর্কে আরেকটি কথা বলি আপনাদের সামনে। কয়েকদিন যাবৎ আমরা কী দেখছি? আমরা দেখতে পাচ্ছি, তারা বিভিন্নভাবে মানুষকে কতগুলো কথা বলছে- যা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা এবং শুধু মিথ্যা কথাই নয়, গুনাহের কথা তারা বলছে। আসুন প্রথমে তাদের মিথ্যা কথা কী বলছে, সেটি আমরা দেখি- কী সেই মিথ্যা কথা?

“...১৯৭১ সালে এই মাটিকে এই মাটির সাথে রক্ত মিশিয়ে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের বুকের রক্ত তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এই দেশ স্বাধীন করেছেন। এই যে দলটি সম্পর্কে আপনাদেরকে সজাগ থাকতে বলছি, আমরা দেখেছি তখন কী ভূমিকা ছিল তাদের। যদি তাদের ভূমিকা সেই সময় দেশের পক্ষে থাকত, যদি তাদের ভূমিকা সেই সময় দেশের জনগণের পক্ষে থাকত; তাহলে লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হতে হতো না।”

জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, “আরে ভাই, আপনাদেরকে তো মানুষ ’৭১ সালেই দেখেছে; ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। ’৭১ সালে মানুষ দেখেছে আপনারা কীভাবে দেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, তারপরে লক্ষ লক্ষ মা বোনের সম্মানহানি হয়েছে ’৭১ সালে।

“দেশের মানুষ দেখেছে- আপনাদের ভূমিকার কারণে এদেশের লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন; অনেক মানুষ পঙ্গু হয়েছে। কাজেই আপনাদেরকে আরও ৫০ বছর আগে দেখে ফেলেছে আপনাদের ভূমিকা কী।”

বিএনপির প্রধান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যারা প্রধান আছেন, ডক্টর ইউনূসসহ সকলকে অনুরোধ করব- তাদেরকে যে প্রটোকল দিয়েছেন, আমাদেরকে যে নিরাপত্তা দিয়েছেন; আমরা আপনাদের অনুরোধ জানাচ্ছি- সরকারের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে, এই লাখো জনতার পক্ষ থেকে, তাদের প্রটোকল দরকারে তিন ডাবল করে দেন।

“তাদের প্রটোকল তিন ডাবল করে দেন, কারণ তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং মানুষ এইটা জানতে পেরে মানুষ তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হচ্ছে। আমরা চাই না, মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু করে বসুক।”

মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি নাসের রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে মৌলভীবাজারের আসনগুলোর বিএনপি প্রার্থীরাও বক্তব্য দেন।

এর আগে দুপুরে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রথম জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান।

মৌলভীবাজারের পরে তিনি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার প্রস্তাবিত উপজেলা মাঠে সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।

এরপর তারেক রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব স্টেডিয়ামে, নরসিংদী পৌর এলাকা সংলগ্ন এলাকায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার রূপগঞ্জের গাউসিয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।

এই সম্পর্কিত আরো