আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছে বিএনপি। প্রথম নির্বাচনী জনসভায় সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য শুরু করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান অনেকটা সিলেটি উচ্চারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সালাম দিয়ে জানতে চান, ‘আপনারা ভালা আছেননি..?’
এর আগে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারেক রহমান সমাবেশের মঞ্চে হাজির হন।
বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ঐতিহ্য ধরে রেখে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকাল রাতে সিলেটে পা রাখেন তারেক রহমান। সঙ্গে স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এই প্রথমবার ঢাকার বাইরে গেলেন তারেক রহমান।
রাতে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে স্ত্রী জুবাইদা রহমানের পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে বেশখানিকটা সময় অবস্থান করে হোটেলে ফিরে রাত যাপন করেন। সেখান থেকে আজ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়েছেন তিনি।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
নির্বাচনী প্রচারের বাইরেও ২২ বছর পর তারেক রহমানের এই আগমন ঘিরে সিলেটে বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগও। কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ।
সকাল থেকেই দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে রেখেছেন সভাস্থল। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ভিড় করেছেন সাধারণ মানুষও।
জাফলং থেকে আসা আব্দুল মান্নান মিয়া চোখেমুখে দৃঢ়তা নিয়ে বলেন, ‘নেতার জন্যই এসেছি। এত বছর পর তিনি আসছেন, এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না। এবার ধানের শীষকে বিজয়ী করতেই হবে।’
সুনামগঞ্জের কয়েস খান কথায় আবেগ লুকাতে পারলেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে চাই। তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।’
এভাবেই একেকজনের কণ্ঠে একেক গল্প, একেক আশা। কেউ এসেছেন পরিবারের সঙ্গে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে, কেউ আবার একাই। কিন্তু সবার অনুভূতি এক, দীর্ঘ অপেক্ষার পর নেতাকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহ।