দীর্ঘ ২২ বছর পর পুণ্যভূমি সিলেটে পা রাখলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে সিলেটে পৌঁছেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। মাজার জিয়ারত শেষে তিনি দেশের শান্তি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
এর আগে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি সরাসরি মাজার প্রাঙ্গণে যান।
দলীয় সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার অনুসৃত ঐতিহ্য অনুযায়ী সিলেট থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ২০০২ সালে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সর্বশেষ সিলেট সফর করেছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই দশক পর তার এই আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার রাতে তারেক রহমান তার শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করবেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় ‘গ্রান্ড সিলেট’ হোটেলে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর চৌহাট্টা এলাকার ঐতিহাসিক সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। এই জনসভার মাধ্যমেই দেশব্যাপী বিএনপির নির্বাচনি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
সিলেটের জনসভা শেষ করে একই দিন দুপুর ১টায় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর আইনপুর খেলার মাঠ এবং দুপুর আড়াইটায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেবেন তারেক রহমান। এরপর পর্যায়ক্রমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে পৃথক নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট-১ আসনকে বরাবরই ‘ক্ষমতার মর্যাদার আসন’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দলই এই পুণ্যভূমি থেকে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করে আসছে। দীর্ঘ ২২ বছর পর সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে তারেক রহমানের এই সফর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে মাজার এলাকা ও নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণ করে তাদের প্রিয় নেতাকে স্বাগত জানিয়েছেন।