ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। গণভোট ও রেফারেনডমের মাধ্যমে দেশের চেহারা বদলে যায় এবং মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সুনামগঞ্জ ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার নির্বাচনের নামে প্রহসন করেছে। দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এবার দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ভোটকেন্দ্রগুলো পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা যদি কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন, তবে উপযুক্ত প্রমাণসহ নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাতে হবে। বিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশ সর্বগ্রাসী ফ্যাসিজম থেকে মুক্তি পাবে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরশাসকের জন্ম হবে না।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সুনামগঞ্জের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শুকুর মিয়া, সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হাফিজ মাওলানা মফিজুর রহমান, সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ন্যাথানায়েল এডউইন ফেয়ারক্রস এবং সমাজকর্মী সুবিমল চক্রবর্তী।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শামসউদ্দিন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. শাহীনুর পাশা চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য প্রার্থীরা।