মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় শীতার্ত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ কুলাউড়া উপজেলা শাখা। কালিটি ও গাজীপুর চা-বাগানের ৬০ জন চা-শ্রমিক ও তাদের সন্তানদের মাঝে শীতবস্ত্র (হুডি ও কম্বল) বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কুলাউড়া পৌর শহর, কুলাউড়া সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও ৭০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি মাহফুজ শাকিল ও শুভসংঘ কুলাউড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বশির আল ফেরদাউসের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শুভসংঘের প্রধান উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত সহযোগী অধ্যাপক ড. রজত কান্তি ভট্টাচার্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সংগঠক সুফিয়ান আহমেদ এবং শুভসংঘের সদস্য ও সাংবাদিক মহি উদ্দিন রিপন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রজত কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আর্ত মানবতার সেবায় বসুন্ধরা শুভসংঘ যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শুভসংঘ সমাজের তৃণমূল পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের খুঁজে বের করে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। কুলাউড়ায় চা-শ্রমিক ও তাদের শিশু সন্তানদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অন্যান্য সংগঠনের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
দুপুর সাড়ে ১২টায় গাজীপুর চা-বাগানে দ্বিতীয় পর্বে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন কুলাউড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল বারী সোহেল। এসময় সমাজকর্মী রিফাত চৌধুরীসহ শুভসংঘের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তৃতীয় পর্বে দুপুর দেড়টায় কালিটি চা-বাগানে আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে কালের কণ্ঠ প্রতিনিধি মাহফুজ শাকিলের সভাপতিত্বে এবং শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক বশির আল ফেরদাউসের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক, কবি ও সাংবাদিক সঞ্জয় দেবনাথ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাশেম, কালিটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ দাস অলমিক, সাংবাদিক মহি উদ্দিন রিপন, লক্ষীপুর হলিক্রস স্কুলের শিক্ষক দিলীপ দাস এবং চা-শ্রমিক নেতা দয়াল অলমিক।
এসময় শুভসংঘের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মামুন, যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল ইসলাম রুমেল, মো. ময়জুল ইসলাম, আব্দুল মুন্তাকিম ফাহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদিয়া জাহান, অর্থ সম্পাদক মিফতা আহমেদ রাফি, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক আরিবা জান্নাত আনিকা, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আরিফুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কালিটি চা-বাগানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষক সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ মানবতার কল্যাণে যে ভূমিকা রাখছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের চা-বাগানে এসে শ্রমিক ও শিশুদের পাশে দাঁড়ানো মানবতার প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ। শুভসংঘের এই উদ্যোগ চা-জনগোষ্ঠী কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে।
শীতবস্ত্র পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কালিটি চা-বাগানের শিশু শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় বসবাস করছে। পরিবারের আয় কম থাকায় শীতের কাপড় কেনা সম্ভব হয় না। অনেক সময় মা-বাবার পুরোনো চাদর গায়ে জড়িয়ে শীত কাটাতে হয়। এবার শুভসংঘের দেওয়া হুডি ও কম্বল পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত।