সিলেট-৩ (বালাগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা) সংসদীয় আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে অবশেষে নিজের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী, বিশিষ্ট সমাজসেবী ও মানবিক হাসপাতালের স্বপ্নদ্রষ্টা মইনুল বাকর।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে আপিল শুনানি শেষে তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনারদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম মইনুল বাকরের মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গত ৯ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল আবেদন করেন তিনি। আজ সেই আবেদনের শুনানি শেষে তাঁর প্রার্থিতা বৈধ বলে স্বীকৃত হয়।
প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মইনুল বাকর বলেন, "আমি সত্য ও সঠিক পথে জনগণের খেদমত করার উদ্দেশ্যে এই যাত্রা শুরু করেছি। অনেক বাধা-বিপত্তি এলেও আমি দমে যাইনি। সিলেট-৩ আসনের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়েই আমি এগিয়ে যেতে চাই।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমার কোনো রাজনৈতিক দল নেই; এলাকার আপামর সাধারণ মানুষই আমার শক্তি। নির্বাচনে হার-জিত বড় কথা নয়, আমি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য শেষ পর্যন্ত ‘ইনসাফের লড়াই’ চালিয়ে যাবো।"
মইনুল বাকরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবর নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছালে সাধারণ ভোটার ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হয়। সাধারণ ভোটারদের মতে, দলবাজির ঊর্ধ্বে থাকা এমন একজন মানবিক ও আদর্শিক মানুষ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় সুস্থ ধারার রাজনীতির প্রত্যাশা বাড়বে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিলেট-৩ আসনের এই নির্বাচনে এখন হেভিওয়েট রাজনৈতিক প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অবস্থানও বেশ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সচেতন মহলের মতে, মইনুল বাকরের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ভোটের লড়াইয়ে ফেরায় এই আসনে এবার ত্রিমুখী বা বহুমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ব্যালট যুদ্ধে কার জয় হয়।