এক সময়ের দুর্গন্ধময় গর্ত, পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেই নাকে হাত দিতে হতো পথচারীদের। সেই জায়গাটিতে এখন রঙিন হাসি হাসছে শিশুরা। জামালগঞ্জ উপজেলা চত্ত্বরে বহুবছর ধরে ময়লাযুক্ত গর্ত। আশপাশের কোয়াটারের ময়লা-আর্বজনা ফেলার জায়গা ছিল এটি। ময়লা পানির দুর্গন্ধে ভরা পরিত্যক্ত ডুবা যেন হঠাৎ করে নতুন জীবন পেয়েছে। যে স্থানে মানুষ যেতে নাকে হাত দিতো, আজ সেটি রূপ নিয়েছে পরিছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন উপজেলা প্রশাসন শিশু পার্ক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নুরের উদ্যোগ ও পরিকল্পনায় পুরো এলাকার দৃশ্যপট উল্টে গেছে। ইতিমধ্যেই পার্কের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। গত ২৮ শে ডিসেম্বর রবিবার সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রেজা-উন-নবী এই পার্কটি উদ্ভোদন করেন। উদ্ভোদনের পরে খুলে দেওয়া হয় পার্কটি। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা চত্ত্বরে ময়লা-আর্বজনায় ভর্তি থাকতো এই গর্তটি। পরিবেশ এতই নোংরা ছিল সেখান দিয়ে কেউ যাতায়াত করলে নাকে রুমাল চাপা দিতে হতো। শিশুদের খেলার জায়গা তো দূরের কথা পাশ দিয়ে যেতে রুমাল চাপা দিতে হতো।
বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নুর জায়গাটি পরিদর্শন করেন এবং এটিকে জনবান্ধন একটি স্থানের সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে পরিত্যক্ত জায়গায় বিটে বালি ফেলে আধুনিক উপজেলা প্রশাসন শিশু পার্ক তৈরি করেন। পার্কটি চারিদিকে প্রতিরক্ষা দেওয়াল, অভিভাবকদের বসার স্থান, শিশুদের খেলাধুলার রাইড, দোলনা, শিশুদের হাঁটার পথ সহ নান্দনিক অবকাঠামো দিয়ে সাজানো হয়েছে।
জামালগঞ্জ কিন্ডারগার্টেন এন্ড জুনিয়র হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল মোছাঃ জরিনা আক্তার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের বেড়ে ওঠার জন্য এমন উন্মুক্ত একটি শিশু পার্ক দরকার ছিল। দীর্ঘদিন পর হলেও ময়লাযুক্ত গর্ত থেকে এমন একটি সুন্দর পার্কে রূপান্তর সত্যিই প্রশংসনীয় কাজ। শিক্ষার্থীদের শারিরীক, মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় এই শিশু পার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইউএনও স্যারের চেষ্টায় আগামীর শিশুদের হাসি আনন্দ দেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। এই পার্ক হওয়ায় শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য ভাল হয়েছে।
জামালগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিধান ভূষণ চক্রবর্তী বলেন, এই পার্কটি আমার এবং কিন্ডারগার্টনের নিকটবর্তী। এটা শুধু জায়গার পরিবর্তন নয় মানুষের মনোভাবের পরিবর্তন হয়েছে। ময়লাযুক্ত গর্ত থেকে পার্কে রূপান্তর সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই ধরণের একটি শিশু পার্কে আমাদের শিক্ষার্থীরা সহ শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নুর বলেন, এই উপজেলায় একটি পার্ক করার পরিকল্পনা নিয়ে জায়গা দেখছিলাম। তখন এই জায়গাটিতে এসে প্রথম দিন বুঝেছিলাম একটি শুধু ময়লাযুক্ত গর্ত নয়, এখানে সম্ভাবনাও আছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আমরা সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছি। এই শিশু পার্কটি প্রমাণ করে মানুষ চাইলে পরিত্যক্ত একটি জায়গাও সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে এই পার্কটিতে শিশু ও পরিবেশ বান্ধব জনকল্যাণ মুলক উদ্যোগ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাবে।