চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ॥ হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারী) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এসময় নদী হতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ২টি ট্রাক্টর ও ১০টি মেশিন এবং বেশ কিছু পাইপ জব্দ করা হয়।
অধিকন্তু ইজারাবহির্ভূত জায়গা থেকে বালু উত্তোলনের অপরাধে চুনারুঘাট পৌরসভার মধ্য-আমকান্দির আব্দুল হকের ছেলে মো: অলিউর রহমান সোহাগ (৩০) কে ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলার রাণীগাও ইউনিয়নের পাচারগাঁও এলাকায় করাঙ্গী নদীসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একাধিক মেশিন ও গাড়ি জব্দ করা হয়। অভিযানে স্থানীয় জনগণ প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।
ঐদিন সকালে চুনারুঘাট উপজেলার আহমদাবাদ ইউনিয়নের বাঁশতলা/কোটবাড়ি, ইছালিয়া, জারুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে ও নদীসংলগ্ন এলাকায় পৃথক মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এর আগে গত (১২ জানুয়ারী) সোমবার করাঙ্গী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আব্দুল্লাহ আল মামুনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে চুনারুঘাট থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অবৈধভবে বালু ও মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
উক্ত মামলায় ইতোমধ্যে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অবশিষ্টদেরকেও দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হবে মর্মে থানাসূত্রে জানা যায়।
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন- পরিবেশ ও নদী রক্ষায় চুনারুঘাট উপজেলা থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবং স্থানীয় জিজ্ঞাসাবাদ ও সরেজমিনে তদন্তক্রমে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে; শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে চুনারুঘাট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে।