বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

গোয়াইনঘাটে বরযাত্রী আসার আগেই বন্ধ বাল্যবিবাহ

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী의 বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বিছনাকান্দি ইউনিয়নের হাদারপাড় গোরাগ্রাম বিলে পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের এক ব্যক্তির ১৫ বছর বয়সী কন্যা—স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী—এর বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনের সমাগম ঘটে এবং নিকাহ নিবন্ধকসহ বরযাত্রী আসার প্রস্তুতি চলছিল। বর ছিলেন একই উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনাইকান্দি লক্ষনছড়া গ্রামের রাজু নামের এক যুবক।

বাল্যবিবাহের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক পুলিশ ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ করেন।

অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে কনের অভিভাবক ও স্বজনদের বাল্যবিবাহের কুফল এবং বিদ্যমান আইন সম্পর্কে অবহিত করেন। একই সঙ্গে কনের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না—এ মর্মে অভিভাবকের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক বলেন, বাল্যবিবাহ একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এটি কিশোরীদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বিয়েটি বন্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, বাল্যবিবাহ কোনো সামাজিক রীতি নয়—এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন অমান্য করে যারা বাল্যবিবাহের আয়োজন করবে, তারা যে-ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযানকালে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের একটি দল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে একটি অকাল বিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী।

এই সম্পর্কিত আরো