উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ হযরত আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর ১৮তম ইন্তেকাল বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ফুলতলী ছাহেববাড়ী সংলগ্ন ঐতিহাসিক বালাই হাওরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশাল ঈসালে সাওয়াব মাহফিল। প্রতিবছরের মতো এবারও লাখো মুসল্লির সমাগমকে কেন্দ্র করে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে পুরো এলাকা জুড়ে।
আয়োজক সূত্র জানায়, মাহফিলকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। মূল স্টেজ, প্যান্ডেল ও প্যান্ডেলের বাইরের বসার জায়গাসহ প্রায় ৪ লক্ষ বর্গফুট এলাকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মুসল্লিদের খাবার পরিবেশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে প্রায় দেড় লাখ বর্গফুটের পৃথক স্থান। জকিগঞ্জ-আটগ্রাম সড়কের রতনগঞ্জ বাজারের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১০টি বড় মাঠ। এছাড়া ছাহেববাড়ি অভিমুখী সড়কের মুখে মোটরসাইকেল রাখার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শৃঙ্খলা ও সেবায় নিয়োজিত থাকবেন প্রায় হাজারো স্বেচ্ছাসেবক। তাদের প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব বণ্টন ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাহফিলস্থল পরিদর্শন করেছেন।
কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় আল্লামা ফুলতলী (র.)-এর মাযার যিয়ারতের মাধ্যমে শুরু হবে দিনের আয়োজন। এরপর খতমে কুরআন ও দোয়ার মাধ্যমে শুরু হবে মূল অনুষ্ঠান। এতে খতমে বুখারী, খতমে খাজেগান, দালাইলুল খায়রাত শরীফের খতম, যিকর মাহফিল, বিষয়ভিত্তিক বয়ান ও স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। মাহফিলে তা’লীম ও তরবিয়ত প্রদান করবেন আল্লামা ফুলতলী (র.)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরি উস্তাযুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব ফুলতলী।
মাহফিলে দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ, পীর-মাশায়িখ, আলিম-উলামা, ইসলামী শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে এ আয়োজনকে সফল করতে সর্বস্তরের মুসলিম জনতার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হযরত আল্লামা ফুলতলী (র.) ১৯১৩ সালে জকিগঞ্জ উপজেলার ফুলতলীতে জন্মগ্রহণ করেন। দীনের বহুমুখী খিদমতে তাঁর অবদান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। ইলমে কিরাত ও হাদিস, তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধির পথে তিনি অসংখ্য মানুষকে পথ দেখিয়েছেন। ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে দেশ-বিদেশে বহু মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারি তিনি ইন্তেকাল করেন।