শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
দুই উপজেলার উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাবো: এমরান চৌধুরী এমপি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ইরান দূতাবাসের শোক বইতে স্বাক্ষর করলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অন্তর্বর্তী সরকার কোনো চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি: জামায়াত আমির উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারল বাংলাদেশ: নারী এশিয়ান কাপ ইরানে যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতা আপনাকে কে দিয়েছে: ট্রাম্পকে আমিরাতের ধনকুবের ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকের খেলাপি কমলেও বেড়েছে জনতার ড্রোন দিয়েই অসম যুদ্ধে লড়ছে ইরান স্বাধীনতা পদক পাচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
advertisement
সিলেট বিভাগ

বিকল্প প্রার্থী কৌশলেই বাড়ছে জট, সিলেটে চাপে বিএনপি

দীর্ঘদিনের আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলা শরিক দলগুলোর সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা হলেও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলীয় বিদ্রোহ। যেসব আসন শরিকদের ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি, সেখানেই মাঠে রয়েছেন দলটির একাধিক প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। এতে বিব্রত অবস্থায় পড়েছে বিএনপি নেতৃত্ব।

 

মাঠের নেতারা চান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেট সফরের আগে স্বতন্ত্র, বিকল্প প্রার্থীর জট খুলে দেওয়ার। নতুবা ঐক্যবদ্ধ স্লোগানের বদলে বিভক্তির স্লোগানে প্রকম্পিত হতে পারে সিলেটের সমাবেশগুলো।

 

এ পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করেছে দলটি। পাশাপাশি গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ডেকে নেওয়া হচ্ছে বিদ্রোহী নেতাদের। এদিকে, শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন হবিগঞ্জ-১ বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া। তারেক রহমান শেখ সুজাত মিয়াকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এ সময় সুজাত মিয়া নিজের ত্যাগ আর সংগ্রামের কথা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সামনে তুলে ধরে নির্বাচন থেকে সরে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান।

 

জানা যায়, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীও একই পথ অনুসরণ করেছেন। ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি জানান, ভোটারদের ভালোবাসা সত্ত্বেও দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের অনুরোধ উপেক্ষা করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

সিলেট বিভাগে তিনটি আসনে আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ছাড়াও বিকল্প প্রার্থী রেখেছে বিএনপি; যা সাংগঠনিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিলেট-৬ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরী মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক এবারও তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

 

সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিকল্প প্রার্থী করা হয়েছে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকে। যিনি এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হতে এহেন কোনো উদ্যোগ নেই, যা তিনি নেননি। সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল। যিনি তৃণমূলের একটি বড় অংশের সমর্থন পাওয়ার দাবি করছেন নির্বাচন প্রস্তুতির শুরু থেকেই।

 

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন বিএনপিরই দাপুটে নেতা শেখ সুজাত মিয়া। ভোটের মাঠে তার শক্ত অবস্থানের কারণে এ আসনে ধানের শীষের বিজয় নিয়ে এখনই ভাবিয়ে তুলেছে দলের নেতাকর্মীদের। ড. রেজা কিবরিয়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে।


এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ড. রেজা কিবরিয়া। তখনো ধানের শীষ চেয়ে বঞ্চিত হয়েছিলেন শেখ সুজাত। এবারও দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সুজাত সিরিয়াস প্রার্থী। ফলে এ আসনে ভোটের সমীকরণ নিয়ে নানান জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।


সিলেট-৫ আসনে সমঝোতার অংশ হিসেবে বিএনপি এ আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের মনোনয়ন প্রত্যাশী, জেলা বিএনপির প্রথম সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন (চাকসু মামুন) বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাকে ইতোমধ্যে বহিষ্কারও করা হয়েছে। তাতে মামুন থমকে না গিয়ে আরও জ্বলে উঠেছেন। মামুনের কট্টর অবস্থানের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের সাবেক আলোচিত ছাত্রনেতা সিদ্দিকুর রহমান পাপলু এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।

 
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এবার শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় অটল থাকতে চায়। কিন্তু তৃণমূল ও সাবেক প্রভাবশালী নেতাদের বিদ্রোহ সেই কৌশলকে দুর্বল করতে পারে। একদিকে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অন্যদিকে ভোটের মাঠে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখা—এই দ্বন্দ্বই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ।

গুলশানে ধারাবাহিক বৈঠকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিএনপি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিদ্রোহী প্রার্থীদের সরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তবে সব বিদ্রোহীকে এক ছাতার নিচে আনা যাবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এই সম্পর্কিত আরো

দুই উপজেলার উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাবো: এমরান চৌধুরী এমপি

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল

ইরান দূতাবাসের শোক বইতে স্বাক্ষর করলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল

অন্তর্বর্তী সরকার কোনো চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি: জামায়াত আমির

উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হারল বাংলাদেশ: নারী এশিয়ান কাপ

ইরানে যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতা আপনাকে কে দিয়েছে: ট্রাম্পকে আমিরাতের ধনকুবের

ইসরাইলের প্রধান বিমানবন্দর বেন গুরিয়নে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকের খেলাপি কমলেও বেড়েছে জনতার

ড্রোন দিয়েই অসম যুদ্ধে লড়ছে ইরান

স্বাধীনতা পদক পাচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল