হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে আজ রাতেই আসতে পারে নাটকীয় সিদ্ধান্ত। দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারেন—এমন গুঞ্জন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করা হতে পারে বলেও আলোচনা চলছে।
নির্ভরযোগ্য দলীয় সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শেখ সুজাত মিয়াকে গুলশান কার্যালয়ে তলব করেছেন। সেখানে দলের নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জি কে গৌছ উপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক চলছিল।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ড. রেজা কিবরিয়া মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। দলীয় বিভেদের সুযোগ নিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী সক্রিয় হচ্ছেন—এমন খবরও জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এ পরিস্থিতি কেন্দ্রের নজরে এলে শনিবার সকালে জরুরি ভিত্তিতে শেখ সুজাত মিয়াকে ঢাকায় তলব করা হয়। সন্ধ্যায় তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। দলীয় সূত্র জানায়, তাঁকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শেখ সুজাত মিয়ার পারিবারিক একটি সূত্র জানায়, তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তারেক রহমানের কাছে দুই দিনের সময় চেয়েছেন। পরিবার ও সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি নির্বাচন করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে বেশির ভাগ সম্ভাবনা রয়েছে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন।
দলীয় নির্দেশনা অমান্য করলে শেখ সুজাত মিয়াকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্দেশনা মেনে নিলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে তাঁকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও শেখ সুজাত মিয়া কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু জানান, আগামী ১৮ জানুয়ারি জনগণের সামনে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। বর্তমানে তিনি তারেক রহমানের ফোন পেয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
এদিকে সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জি কে গৌছের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান বলেন, আমরা শুনেছি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়াকে জরুরি তলব করে ঢাকায় নিয়েছেন। কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা এখনও আমাদের জানানো হয়নি।
ড. রেজা কিবরিয়ার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান চৌধুরী শেফু বলেন, হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি ঐক্যবদ্ধ। দলের বৃহত্তর স্বার্থে শেখ সুজাত মিয়া তাঁর প্রার্থীতা প্রত্যাহার করবেন—এটাই আমাদের বিশ্বাস।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে রয়েছে, তিনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হবিগঞ্জ-১ আসনের পরিস্থিতি আমাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি সরাসরি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তত্ত্বাবধান করছেন।