মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ কুলাউড়া সরকারি কলেজে ৫৬ বছর পর বহুল প্রতীক্ষিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, কুলাউড়া সরকারি কলেজ–এর আয়োজনে শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। নবীন–প্রবীণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল কলেজ প্রাঙ্গণ। কয়েক শতাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীর প্রাণোচ্ছল অংশগ্রহণে দিনভর নানা আয়োজন এবং রাতে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুনর্মিলনীর সফল সমাপ্তি ঘটে।
সকাল ১১টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খান। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য সজল।
সাড়ে ১১টায় কলেজের প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন নির্মাল্য মিত্র সুমন এবং তাদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন কলেজের শিক্ষক মো. জমসেদ খান। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষের অবসরজনিত মানপত্র পাঠ করেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফজলুল হক ফজলু।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব সুফিয়ান আহমদ ও যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম মিন্টুর সঞ্চালনায় বেলা ১২টা থেকে পর্যায়ক্রমে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন। এতে বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা কলেজজীবনের স্মৃতি, বন্ধুত্ব ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্কের নানা গল্প তুলে ধরেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী। কলেজ প্রাঙ্গণে স্থাপিত ফটোমঞ্চে ব্যাচভিত্তিক গ্রুপ ফটোসেশনে অংশ নেন তারা। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উল্লাসে মুখর ছিল পুরো ক্যাম্পাস। দীর্ঘদিন পর দেখা সহপাঠীদের পেয়ে কেউ জড়িয়ে ধরছেন, কেউ সেলফিতে মুহূর্ত বন্দি করছেন, আবার কেউ দল বেঁধে গান গেয়ে স্মৃতিতে ডুব দিচ্ছেন। দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত বহু প্রাক্তন শিক্ষার্থী এ আয়োজনের মাধ্যমে যেন ফিরে যান তারুণ্যে ভরা সেই দিনগুলোতে।
বেলা ৩টায় কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানকে অবসরজনিত মানপত্র ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়। তৃতীয় অধিবেশনে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি জনপ্রিয় ব্যান্ড দল এ্যাসেজ (জুনায়েদ ইভান) এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড দল স্মরুপ সংগীত পরিবেশন করে।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সুফিয়ান আহমদ বলেন, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কুলাউড়া সরকারি কলেজ ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ পুনর্মিলনী প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জন্য এক আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রায় এক হাজার প্রাক্তন শিক্ষার্থী এ অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রেশন করেন।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খান বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ পুনর্মিলনী কুলাউড়া সরকারি কলেজের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কলেজের উন্নয়ন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও সমাজ উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে। পুনর্মিলনী থেকে সাশ্রয় করা অর্থ দিয়ে একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সবার মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হবে।