ব্রিটেনে বাংলাদেশি প্রবাসী কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, শিক্ষা বিস্তার এবং প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশেও সমাজসেবার স্বীকৃতিস্বরূপ 'প্রবাসী সম্মাননা' লাভ করেছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী শেখ ফারুক আহমদ (পিএইচএফ)।
সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত ২৭ ডিসেম্বর সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা তুলে প্রদান করা হয়।
ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল নাসের খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক। এ সময় জনপ্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের প্রবাসী কমিউনিটি নেতা এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ ফারুক আহমদ যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে অত্যন্ত সুপরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে মানবকল্যাণে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সমস্যা, অধিকার ও দাবি আদায়ে তিনি সবসময় সক্রিয় ও সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন।
তিনি প্রেসিডেন্সিয়াল মেম্বার সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার পাশাপাশি পলাশ সেবা ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়াও তিনি হাউস অব গিভিং ফাউন্ডেশন ইউকে-এর ট্রাস্টিশিপ ও আজীবন সদস্য এবং বৃহত্তর সিলেট এডুকেশন ট্রাস্ট ও জগন্নাথপুর ব্রিটিশ বাংলা এডুকেশন ট্রাস্ট (ইউকে)-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
রোটারি আন্দোলনেও শেখ ফারুক আহমদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তিনি রোটারি ক্লাব অব জালালাবাদের অভিষেক কমিটির সভাপতি (১৯৯৫) এবং রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৮০-এর ইন্টার সিটি কনফারেন্স কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন (১৯৯৪)।
শেখ ফারুক আহমদের এই সম্মাননা নতুন প্রজন্মের প্রবাসীদের দেশ ও সমাজের কল্যাণে আরও বেশি করে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।
শেখ ফারুক আহমদের জন্ম ও পৈতৃক নিবাস সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শাহারপাড়া-সৈয়দপুর ইউনিয়নের আউদত গ্রামে। ১৯৫৮ সালে তাঁর জন্ম এবং ১৯৭৪ সালে তিনি যুক্তরাজ্য গমন করেন। সেখানে এসেক্সের বার্নহাম অন ক্রাউচ শহরে বাস করছেন। তিনি ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দেশে অবস্থান করেছিলেন। সে সময় তিনি সিলেটে অনেক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন এবং সমাজসেবামূলক অনেক কাজ সম্পন্ন করেন। তাঁর পুত্ররাও সে দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুখ্যাতি অর্জন করেছে।