শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

দিরাই শাল্লায় বিএনপির প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা: পাবেল চৌধুরীকে চূড়ান্ত করার দাবি জোরালো

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ও নেপথ্য টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

দলীয়ভাবে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলের নাম প্রার্থী তালিকায় ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে দুইজনই মনোনয়নপত্র দাখিল করে বৈধতা নিশ্চিত করেন।

একই আসনে দুই দলীয় প্রার্থী থাকা তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ধোঁয়াশা ও দায়িত্বশীল মহলে বিভ্রান্তি এবং প্রশ্ন তৈরি করেছে কাকে চূড়ান্ত করবে দল।

নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বয়সজনিত শারীরিক সমস্যা ও দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয়তা তার নির্বাচনী সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিগত কয়েক বছরে প্যারালাইসিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। বর্তমানে নিজ বলয়ের একাধিক স্থানে সীমিত আকারে উঠান বৈঠক করলেও বৃহত্তর মাঠে তাকে দেখা যাচ্ছে না।

অন্যদিকে অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল দলীয় সংকট, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা, করোনাকালীন সহায়তা, বন্যা ও দুর্যোগে তৃণমূলের পাশে উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়ভাবে দুর্যোগকালীন মানবিক উপস্থিতি ও ‘দুর্দিনের রাজনীতি’ তার সংগঠন ও জনপ্রিয়তাকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করেছে বলে নেতাকর্মীরা মনে করেন।

শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, দলের প্রতিকূল সময়ে যাদের দেখা যায় তারা-ই সংগঠনের শক্তি। পাবেল চৌধুরীকে সেই সময়ে আমরা রাজপথে পেয়েছি।

শাল্লা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম মাস্টার বলেন, করোনা ও বন্যায় মানুষের পাশে থাকার কারণে পাবেল চৌধুরীর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। নেতাকর্মী ও ভোটারদের সাথে সরাসরি সংযোগ আছে।

দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল কাইয়ূম বলেন, এই আসনে জামায়াতের অ্যাডভোকেট শিশির মনির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছে। তাকে মোকাবিলা করতে হলে সক্ষম ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় প্রার্থী দরকার। সে হিসেবে পাবেল চৌধুরীই দলের উপযোগী।

দিরাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, নেতা শুধু নির্বাচনের দিনে নয়, দুর্দিনে রাজপথে পাওয়া যায়। কর্মীরা পাবেল চৌধুরীকে সেই সময়ে পেয়েছে।

দিরাই উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু হাসান চৌধুরী সাজু বলেন, তরুণ ও ছাত্রভোটারের মাঝে পাবেল চৌধুরীর গ্রহণযোগ্যতা আছে। সংগঠনের ধারাবাহিকতাও আছে।

দিরাই-শাল্লা আসনে জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট শিশির মনির মাঠ কাজ শুরু করেছেন আগেই। ইউনিয়ন, গ্রামভিত্তিক তার ভোট সংগঠন কাঠামো বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ‘হুমকিপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় বিএনপির বয়স্ক ও অসুস্থ প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন কঠিন হতে পারে এমন মতও তৃণমূলে জোরালো হয়েছে।

দুর্দিনের রাজনীতি এবং বংশগত বিশ্বাস পাবেল চৌধুরী ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু করায় তরুণদের কাছে তার রাজনৈতিক স্মৃতি ও সংযোগ রয়ে গেছে। পাশাপাশি তার পরিবার দিরাই-শাল্লার ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ পরিবার হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পূর্ব থেকে তাদের মানবিক ও সামাজিক ভূমিকা এলাকাজুড়ে একটি ‘বিশ্বাসের বংশধারা’ তৈরি করেছে বলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেছেন।

অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল বলেন, আমি বিশ্বাস করি দল আমাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে। প্রথমে দিরাই-শাল্লা আসন স্থগিত ছিল, পরে নাছির চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন দাখিলের একদিন আগে দল আমাকে নমিনেশন দেয়। আমি জমা দিয়েছি। এখন দেখা যাক দল কী সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি বলেন, আমি ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। সতেরো বছর ধরে মাঠে আছি। আন্দোলন-সংগ্রাম, সংগঠন গঠন, বন্যা-খরা-মহামারী সব সংকটে মানুষ ও দলের পাশে থেকেছি। আমাদের পরিবার স্বাধীনতার পূর্ব থেকে দিরাই-শাল্লার মানুষের সঙ্গে আছে।

নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার চাচা নাছির উদ্দিন চৌধুরী অত্যন্ত অসুস্থ। বয়সের ভারও রয়েছে। এই বাস্তবতায় দলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, দিরাই-শাল্লার নির্বাচন হচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষের নির্বাচন। দিরাই-শাল্লার ৯৫% মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বিশ্বাস করি, এই জনগণ আমাকেই ভোট দেবে।

এই সম্পর্কিত আরো