সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেছেন, সঠিকভাবে ব্যবস্থাপিত ও নিরাপদ যুব অভিবাসন দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেমিট্যান্স বয়ে আনে। বাংলাদেশের বিশাল জনসংখ্যা আমাদের একটি বড় শক্তি। তবে এই শক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করতে হলে দক্ষতার বিকল্প নেই।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর উপশহরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইডিয়া’র (IDEA) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রকল্প অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং আইডিয়া’র উদ্যোগে ‘কমিউনিটি ভিত্তিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা তৈরির মাধ্যমে নিরাপদ, আইনসম্মত ও তথ্যভিত্তিক যুব অভিবাসন উৎসাহিতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও মৌলভীবাজার শহরে বাস্তবায়িত হবে।
বিভাগীয় কমিশনার তার বক্তব্যে অভিবাসন খাতের কিছু চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দক্ষতার চেয়ে সার্টিফিকেট নির্ভর হয়ে পড়েছে। এছাড়া নেতৃত্বের অভাব ও কাঠামোগত দুর্বলতা মানবসম্পদ উন্নয়নের পথে বড় বাধা। নিরাপদ যুব অভিবাসন নিশ্চিত করতে মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজন। তিনি নিরাপদ অভিবাসনে সচেতনতা তৈরিতে আইডিয়া’র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
আইডিয়ার নির্বাহী পরিচালক নজমুল হকের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সিলেটের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুস সাকিব এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক মো. ফকরুজ্জামান।
বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, সিলেটে নিরাপদ অভিবাসনের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। অনেক সময় তথ্যের অভাবে যুবসমাজ প্রতারণা ও জালিয়াতির শিকার হয়। প্রকল্পের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে যুবকরা সঠিক তথ্য লাভ করবে এবং নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবে।
আইডিয়া’র প্রেসিডেন্ট ড. আবুল ফাত্তাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অভিবাসনের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরেন। বিশেষ করে ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ (চুক্তিভিত্তিক বিবাহ), ভুয়া সার্টিফিকেট যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা, স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত কর্মসংস্থান এবং বিদেশে তথ্যকেন্দ্র স্থাপনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষার্থী সামিয়া অভিবাসনের অন্যতম কারণ হিসেবে স্থানীয় কর্মসংস্থানের অভাবকে চিহ্নিত করেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ফেরদৌস আলম, নজরুল ইসলাম বাসন, আব্দুর রউফ প্রমুখ।
কর্মশালায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এনজিও কর্মী, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং ফরেন এডমিশন এন্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালটেন্ট এসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা অভিবাসন প্রক্রিয়াকে সহজতর ও দুর্নীতিমুক্ত করতে সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।