কোনো নাগরিককে পেছনে রেখে টেকসই ও সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের—এ কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেছেন, দলিত, বেদে, সমতলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, ট্রান্সজেন্ডার, চা-শ্রমিকসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রতি সমাজের অন্য শ্রেণির মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। একইসঙ্গে এসব জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমষ্টির উদ্যোগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন (এফজিডি) সভায় আলোচকেরা এসব কথা বলেন। সিলেট নগরের মিরবক্সটুলাস্থ দৈনিক দেশবার্তা কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন দৈনিক দেশবার্তার আঞ্চলিক সম্পাদক লিয়াকত শাহ ফরিদী। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জাহিদুল হক খান।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সুষ্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। তবে এর আগে এসব জনগোষ্ঠীর প্রকৃত জীবনচিত্র, বঞ্চনা ও সম্ভাবনার কথা গণমাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।
সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—দৈনিক উত্তরপূর্বের সাব-এডিটর মনিকা ইসলাম, খান, জিটিভির সিলেট প্রতিনিধি বিলকিস আক্তার সুমি, চ্যানেল আইয়ের সাংবাদিক সুবর্ণা হামিদ, দৈনিক জালালাবাদের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আহবাব মোস্তফা, খবরের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার শাকিলা ববি, সিলেটের মানচিত্রের চিফ রিপোর্টার কাইয়ুম উল্লাস, ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার অমিতা সিনহা, সিলেটভিউয়ের স্টাফ রিপোর্টার সুব্রত দাস ও নতুন সময়ের স্টাফ রিপোর্টার আবু সাঈদ।
সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেওয়া রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব উল্লেখ করে সমষ্টির পরিচালক জাহিদুল হক খান বলেন-এটি রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ও সংবিধানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা। যারা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়েছে, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক দেশবার্তার আঞ্চলিক সম্পাদক লিয়াকত শাহ ফরিদী বলেন- সমাজে অনগ্রসর ও অতি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর একটি স্পষ্ট সংজ্ঞা, নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত ও তালিকা প্রণয়ন প্রয়োজন। সমান কিংবা সামান্য সুযোগ পেলে পিছিয়ে পড়া মানুষেরাও যে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে পারে—তার বহু উদাহরণ রয়েছে। তাই রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে এসব জনগোষ্ঠীর জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা সময়ের দাবি।