আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বাছাই পর্ব শেষ হতেই সিলেটে মনোনয়ন বাতিল প্রার্থীদের শুরু হয়েছে পেরেশানি। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ পাওয়ায় চার জেলার বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যস্ততা। কেউ আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন, কেউ আবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকার লড়াইয়ে এখন আপিলই হয়ে উঠেছে তাদের শেষ ভরসা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের ১৯টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১১০টি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া নানা ত্রুটি ও অসঙ্গতির কারণে ৩৬টি মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। মনোনয়ন বাতিলের পর সোমবার (৫ জানুয়ারি) থেকে সিলেট বিভাগের সঙ্ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা আপিলের প্রস্তুতি ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ শুরু করেছেন।
ইসি সূত্র জানায়, সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে এবার মোট ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপরদিকে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। রবিবার রাতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহা-পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক এ এস এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, মনোনয়ন গ্রহণ ও বাতিল সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টা পর্যন্ত আপিল দায়ের করা যাবে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার প্রার্থীদের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে নির্ধারিত ৬ নম্বর বুথে আপিল জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আপিল গ্রহণের জন্য অঞ্চলভিত্তিক মোট ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। যার মধ্যে সিলেট বিভাগের চার জেলার জন্য আলাদা করে এই বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসি আরও জানিয়েছে, আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে সঙ্ক্ষুব্ধ প্রার্থী নিজে অথবা ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রার্থীর লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি আবেদন জমা দিতে পারবেন। আপিলগুলো আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে।
এদিকে মনোনয়ন বাতিল হওয়া একাধিক প্রার্থী ঘনিষ্ঠজনদের মাধ্যমে আইনজীবী ও নির্বাচন-বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক করতে ব্যস্ত, কেউ আবার আইনি যুক্তি ও পূর্ববর্তী নজির খতিয়ে দেখছেন। আপিলের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে তাঁদের নির্বাচনি ভবিষ্যৎ।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আপিল নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।