সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ৭জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। অপর দুই প্রার্থীর একজনের স্থগিত ও অপরজনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এ ঘোষণা দেন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে জাতীয়পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় তার প্রার্থীতা স্থগিত এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা সাইদ আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
অপরদিকে এ আসনে বিএনপিপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামপ্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি'র মো. রাশেল উল আলম, খেলাফত মজলিসের মুফতি আলী হাসান উমামা, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) জহিরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেল সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (তথ্য ও অভিযোগ শাখা, মিডিয়া সেল) তানভীর হোসাইন সজীব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, শনিবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়। যাচাই-বাছাইকালে সিলেট-৪ আসনে জাতীয়পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকায় তার প্রার্থীতা স্থগিত করা হয়। একই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা সাইদ আহমদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
যাচাই-বাছাইয়ে দাখিলকৃত হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আরিফুল হক চৌধুরী প্রায় সাড়ে ৮ একর জমির মূল্য দেখিয়েছেন মাত্র ২০ লাখ ১৫ হাজার ২৮২ টাকা। পাঁচ হাজার ৩৫ বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩২ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩০ টাকা।
তার স্ত্রী সামা হক চৌধুরীর নামে রয়েছে ১৯ হাজার ৫৯৩ বর্গফুটের একটি বাড়ি, যার মূল্য দেখানো হয়েছে পাঁচ কোটি ৬০ লাখ এক হাজার ২৬০ টাকা। আরিফুল হক চৌধুরীর নিজ নামে থাকা সম্পদের বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮২ টাকা। অন্যদিকে স্ত্রীর নামে থাকা পাঁচ কোটি ৭৫ লাখ ১৩ হাজার ২০৭ টাকার সম্পদের বর্তমান মূল্য ছয় কোটি ৯৫ লাখ ১৩ হাজার ২০৭ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আরিফুল হক চৌধুরীর বার্ষিক আয় ছিল সাত লাখ ৫৮ হাজার টাকা। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ৮৩ হাজার ২৩৬ টাকা, যা আগের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।
স্বশিক্ষিত আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রীর নামে সাত বছর আগে কোনো স্থাবর সম্পদ না থাকলেও বর্তমানে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। হলফনামা অনুযায়ী, আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যবহৃত একটি গাড়ির মূল্য এক কোটি ৬৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৪৮ টাকা এবং আরেকটি গাড়ির মূল্য দেখানো হয়েছে ১২ লাখ টাকা। তার কাছে থাকা ১০ ভরি স্বর্ণের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে থাকা ২৭ ভরি স্বর্ণের মূল্য এক লাখ ৯৮ হাজার ৪৫০ টাকা।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে সিলেট-৪ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।