নিজের আয় এবং দলের কর্মী-শুভানুধ্যায়ীদের দানের অর্থে নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহ করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
সুনামগঞ্জ-২ আসন (দিরাই-শাল্লা) থেকে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি। তাঁর বয়স ৪৪ বছর। বাড়ি শাল্লা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে। তিনি এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির চৌধুরী। এর আগে পাঁচবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাশাপাশি দলীয় চিঠি পেয়ে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহির রায়হান চৌধুরী, যিনি এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
আয়-রোজগারের চিত্র
হলফনামা অনুযায়ী, মোহাম্মদ শিশির মনিরের পেশা আইন ব্যবসা। পেশা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৬৩ হাজার ৪০৭ টাকা। ব্যাংক লভ্যাংশসহ অন্যান্য উৎস থেকে আয় দেখিয়েছেন ৯৬ হাজার ৫৯৩ টাকা।
হলফনামায় তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া সাদিয়া রায়হানের পেশা উল্লেখ করা হয়েছে বেসরকারি চাকরি। তাঁর বার্ষিক আয় ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৫১৫ টাকা। এর মধ্যে চাকরি থেকে আয় ৬৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৩২ টাকা। শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয় থেকে আয় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮৩৮ টাকা এবং ব্যাংক লভ্যাংশসহ অন্যান্য উৎস থেকে আয় ২০ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৫ টাকা।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী নাছির চৌধুরীর বয়স ৭৫ বছর। বাড়ি দিরাই উপজেলা সদরের আনোয়ারপুরে। পেশা কৃষি। কৃষি থেকে তিনি বছরে চার লাখ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী পারভিন আকতার গৃহিণী।
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী তাহির রায়হান চৌধুরীর বয়স ৪৯ বছর। পেশা আইন ব্যবসা। কৃষি ও অন্যান্য খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৪৪ টাকা। তাঁর স্ত্রী রোমেনা রায়হান চৌধুরীও যুক্তরাজ্যপ্রবাসী।
কার কত সম্পদ
মোহাম্মদ শিশির মনিরের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫১ লাখ ৪ হাজার ৩০৪ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ ৯ লাখ ৫২ হাজার ৪ টাকা, ব্যাংকে ২ হাজার ৩০০ টাকা, ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের যানবাহন, ৪ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক পণ্য এবং উপহার হিসেবে পাওয়া ২৫ ভরি সোনা।
তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৩ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে নগদ ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৬৫ টাকা, ব্যাংকে ৩৮ লাখ ২৬ হাজার ৩১৭ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানত ৯১ লাখ ৯০ হাজার ৫৯৫ টাকা, ৪৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার যানবাহন, ৭ লাখ ২০ হাজার ৪০০ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং উপহার হিসেবে পাওয়া ২৫ ভরি সোনা। তাঁর কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তবে শিশির মনিরের নামে ১ কোটি ৮১ লাখ ৮৭ হাজার ৪২০ টাকা মূল্যের অকৃষিজমি রয়েছে।
নাছির চৌধুরী নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, ইলেকট্রনিক ও আসবাব মিলিয়ে ১৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন। তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে তিন একর কৃষিজমি। স্ত্রীর সম্পদ হিসেবে উল্লেখ আছে পাঁচ ভরি সোনা।
তাহির রায়হান চৌধুরীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৪ লাখ ৮ হাজার ৮৯২ টাকা, ১০ লাখ টাকার একটি প্রাইভেট কার, ২০ ভরি সোনা এবং ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক ও আসবাবসামগ্রী। তাঁর স্থাবর সম্পদ হিসেবে আছে ১১ একর কৃষিজমি।
মামলা ও নির্বাচনী ব্যয়
হলফনামা অনুযায়ী, মোহাম্মদ শিশির মনিরের বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দুটি মামলা রয়েছে। এর একটি ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা, যা হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে স্থগিত রয়েছে। অপর মামলাটি তদন্তাধীন। বিএনপির প্রার্থী নাছির চৌধুরী ও তাহির রায়হান চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে শিশির মনির উল্লেখ করেছেন, তিনি মোট ৩০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। এর মধ্যে ২০ লাখ টাকা আসবে তাঁর নিজস্ব পেশাগত আয় থেকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আসবে ১০ লাখ ৬০ হাজার টাকা, যা দলের কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের দান।
নাছির চৌধুরী নির্বাচনে ব্যয় করবেন ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৩ লাখ টাকা নিজের এবং বাকি ১৩ লাখ টাকা দেবেন তাঁর লন্ডন, আমেরিকা ও ইতালিপ্রবাসী তিন ভাই।
তাহির রায়হান চৌধুরী নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণ করেছেন ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা নিজের এবং ১৫ লাখ টাকা দেবেন তাঁর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই ভাই।