বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

জৈন্তাপুরের লালাখালের নীল জল পর্যটকদের মুগ্ধ করছে।

জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের অর্ন্তগত লালাখাল পর্যটন স্পষ্ট,  যার মূল আর্কষনই হচ্ছে নীল সচ্চ পানি।  এই নীল পানি দেখার জন্য দেশ বিদেশ থেকে প্রতিবছর ছুটে আসেন হাজার হাজর পর্যটক, আর সৌন্দর্য দেখার এখনই উপযুক্ত সময়।

জৈন্তাপুর উপজেলায় বয়ে চলেছে সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত সারী নদী, যা স্বচ্ছ আর নীল জলরাশি জন্য পরিচিত এবং যার প্রাণকেন্দ্র লালাখাল পর্যটন কেন্দ্র। মেঘালয়ের লেসকা এলাকায় মাইনন্থু পাহাড়ী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে লালাখাল জিরো পয়েন্ট হয়ে বাংলাদেশে সারী গোয়াইন নদী নামে প্রবাহিত হয়ে এটি সিলেটের সুরমা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে।

স্বচ্ছ নীল জল ও মেঘালয়ের নিকটে বাংলাদেশের বাগছড়া সীমান্তবর্তী অংশ দিয়ে একপাশে ভারতের সবুজে ঘেরা পাহাড় আর অপর প্রান্তে আফিফানগর চা-বাগানের কোল ঘেঁষে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে নদীটি। এর কিছু অংশ ভেতরে আসতেই লালাখাল জিরো পয়েন্টে নদীর দুই পাশে পাষাণ পাথরে ঘেরা তীর পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিকট মনকাড়া এক সৌন্দর্য উপভোগের জায়গা।

চলতি পর্যটন মৌসুমের শুরু থেকে নয়নাভিরাম এই সবুজ প্রকৃতি ও সারী নদীর স্বচ্ছ নীল জলরাশি উপভোগ করতে ক্রমশ বাড়ছে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভীড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভ্রমণপিপাসুদের নিকট পরিচিত লালাখাল পর্যটনকেন্দ্র। এখানে যারা বেড়াতে আসেন, তাদের মূল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে লালাখাল জিরো পয়েন্ট অংশে যেতে হয়। নয়তো উঁচু-নিচু দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে জিরো পয়েন্টে যাওয়া অনেকটা অসাধ্য। আর জিরো পয়েন্টে না গেলে লালাখাল ভ্রমণটাই যেন পূর্ণতা পায় না।

এখানকার পর্যটনকে ঘিরে লালাখাল কালিঞ্জিবাড়ী নৌঘাটে গড়ে ওঠা যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকা সমবায় সমিতির সভাপতি বশির উদ্দিন জানান, ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রতিদিন পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়ছে। এই ঘাটে ৭০টি ইঞ্জিন নৌকা রয়েছে। একেকটি নৌকায় ৮-১২ জনের গ্রুপ লালাখাল জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারে। দুই কিলোমিটার অংশজুড়ে সারী নদী, দুইদিকে সবুজ প্রকৃতি আর আফিফানগর চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন আগত পর্যটকরা। দেড় থেকে দুই ঘণ্টার এই নৌযাত্রায় প্রতিটি ইঞ্জিনচালিত নৌকাকে দিতে হয় ৮০০ টাকা ভাড়া।

তিনি আরও জানান, রবি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভীড় কিছুটা কম থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দুইদিন শুক্রবার ও শনিবার দর্শনার্থীদের ভীড় বেশি থাকে। এই দিনগুলোতে সবগুলো ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যস্ততম সময় পার করে। কোনো নৌকার মাঝি কর্তৃক কোনো পর্যটক যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে নৌ সমিতির পক্ষ থেকে।

এদিকে, পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের ভীড় বেশি হওয়ায় কালিঞ্জিবাড়ী ঘাট ও বটতলা ঘাট বাজার এলাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁয় বেড়েছে বিকিবিনি। বটতলা বাজারের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলমগীর জানান, অনেক পর্যটক নৌকা দিয়ে সারী নদী পার হয়ে বটতলা বাজারে আসেন। পরে এখান থেকে এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে লালাখাল চা-বাগান ও আফিফানগর চা-বাগান পরিদর্শন করেন। সাম্প্রতিক সময়ে বটতলা বাজারে পর্যটক সমাগম বৃদ্ধি পাওয়া হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে স্ন্যাকস্ জাতীয় খাবারের পাশাপাশি দুপুরের খাবার বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে।

লালাখালে গ্রুপ ট্যুরে আসা দ্যা গোল্ডেন টুরিস্ট ক্লাবের অন্যতম সদস্য শাকিব রেজা জানান, তিন দিন আর চার রাতের গ্রুপ ট্যুরে তারা সিলেটের লালাখাল, শাপলাবিল ও জাফলংয়ে এসেছেন। তাদের সদস্য সংখ্যা ৪০ জন। তিনি এর আগে লালাখালে আরও তিনবার গ্রুপ ট্যুরে এসেছিলেন। সে সময় রাস্তার অবস্থা বেহাল ছিল। সম্প্রতি রাস্তা সংস্কার হওয়ায় চলতি মৌসুমে ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

জৈন্তাপুর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম রিয়াজ মাহমুদ বলেন, সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের সারিঘাট উত্তর পাড় অংশ হয়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে কালিঞ্জিবাড়ী লালাখালে আসতে হয়। কয়েক বছর পূর্বে রাস্তার অবস্থা ভালো না থাকায় পর্যটকদের ভোগান্তির শিকার হতে হতো। কিন্তু গত ২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় পুরো সাত কিলোমিটার অংশজুড়ে রাস্তার সংস্কারকাজ করায় চলতি পর্যটন মৌসুমে আর কোনো ভোগান্তি নেই। যার ফলে লালাখালে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সারী নদীর উপর কালিঞ্জিবাড়ী অংশ থেকে বটতলা নিশ্চিন্তপুর অংশ পর্যন্ত একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে অদূর ভবিষ্যতে লালাখাল হবে ভ্রমণপিপাসুদের নিকট জনপ্রিয় একটি পর্যটনকেন্দ্র।

এই সম্পর্কিত আরো