হাওরের জনপদ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে হাওরপাড়ের ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ।
একই সঙ্গে পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানো অসহায় মানুষের কষ্টও বেড়েছে বহুগুণ। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
দিরাই উপজেলার বিভিন্ন হাওরপাড়ের গ্রাম ও পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড, থানা সড়ক ও বাজারসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কেউ ফুটপাতে পলিথিন বিছিয়ে, কেউ কার্টন কিংবা পুরোনো বস্তা গায়ে জড়িয়ে শুয়ে আছেন। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি শোচনীয়।
হাওরপাড়ের রাজানগর ইউনিয়নের দিনমজুর রমিজ আলী বলেন, শীত বাড়ার পর থেকে কাজ কমে গেছে। আয় না থাকায় শীতের কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
অন্যদিকে দিরাই পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তায় শুয়ে থাকা ছিন্নমূল ব্যক্তি মনির মিয়া বলেন, রাত হলেই শরীর কাঁপে। খোলা আকাশের নিচে থাকতে হয়। গরম কাপড় বা কম্বল না থাকায় ঘুমানো যায় না।
একই এলাকার বৃদ্ধা ফুল বিবি জানান, দিনে মানুষের দয়ায় যা পাই তাই খাই। রাতে এই রাস্তায়ই থাকতে হয়। শীতে অসুস্থ হয়ে পড়ছি।
স্থানীয়রা জানান, শীত যত বাড়ছে রাস্তায় অবস্থানরত মানুষের কষ্ট ততই বেড়ে যাচ্ছে। অনেকেই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সনজীব সরকার বলেন, শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার বোর্ডিংয়ে থাকা এতিম শিক্ষার্থী, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। হাওরপাড়ের বিভিন্ন জায়গায় ও রাস্তায় অবস্থানরত অসহায় মানুষদের অগ্রাধিকার দিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও শীতবস্ত্র বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাওরপাড় ও শহরের রাস্তায় থাকা অসহায় মানুষের দাবি দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে শীতবস্ত্র সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হোক। তা না হলে এই শীতে তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।